মেইন ম্যেনু

রুশ বিমানের দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন বিতর্ক

রুশ বিমান মেট্রোজেট ফ্লাইট ৯২৬৮ এর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে নতুন কিছু সূত্র বেরিয়ে এসেছে। এই সূত্র একিসাথে দুটো সম্ভবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে- মাঝ আকাশের আকস্মিক বিস্ফোরণ নাকি বিমানটির পূর্বের কোনো দুর্ঘটনা এবং তার ত্রুটিযুক্ত মেরামত এই ভয়ানক বিধ্বংসের জন্য দায়ী?

বিমানটি ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে শনিবার সকালে মিশরের শারম আল শেখ থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের উদ্দেশে যাত্রা করলে সিনাই প্রদেশে এসে বিধ্বস্ত হয়। রুশ সংবাদ মাধ্যম রাশিয়া২৪ থেকে জানা গেছে, ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে গিয়ে প্লেনের লেজটাকে পাওয়া গেছে বাকি ধ্বংসাবশেষ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। এতে আরও বলা হয় বাকি ধ্বংসাবশেষের কথাও আগুনে পোড়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি ।

বিমান বিশ্লেষক ম্যারি চিয়াভো বলেছেন, ‘বিমানটার বাকি ধ্বংসাবশেষ থেকে লেজটার আলাদা থাকার ব্যাপারটা একটু লক্ষ্যণীয় বিশেষ করে যখন লেজটাকে আগে মেরামত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় লেজটা ভেঙ্গে গিয়েছিল বিস্ফোরণের আগেই।’

এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক যারা বিমানের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার খবর রাখে তাদের তথ্য মতে, ২০০১ সালে কায়রোতে এই একই বিমানের লেজ রানওয়েতে আঘাত পেয়েছিল এবং সেটাকে তারপর মেরামত করা হয়। বিমানটা তখন অন্য আর একটা কোম্পানির অধীনে উড়ত।

বিশ্লেষক ম্যারি চিয়াভো আরও বলেছেন, ‘মেরামত করা কাজে কোন একটা সমস্যা হওয়া অসম্ভব কিছু না। পূর্বে অন্য একটা বিধ্বস্ত বিমানের কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন যে বিমানের লেজে আঘাত পাওয়ার পর মেরামত ঠিকমত না হলে সেটার কারনে এমনকি দুই যুগ পরেও বিমান বিধ্বস্ত হতে পারে।’

তিনি বলেছেন, ‘বাজেভাবে মেরামত করা কাজ অনেকটা টিক টিক করা টাইম বোমার মত। এটা একবার হলে, সারাজীবন থেকে যায়।’

এর জবাবে এয়ারলাইন কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘বিমানটা ২০০১ সালে আঘাত পেয়েছিল ঠিকই কিন্তু সম্প্রতি ২০১৩ সালে এটাকে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতে মারাত্মক কিছু পাওয়া যায়নি।’

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিমানটা কি মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছিল? রুশ এবং মিশরীয় বিশেষজ্ঞরা এতক্ষন পর্যন্ত প্রাথমিক যেসব নিরীক্ষণ করেছেন তাতে বিস্ফোরণের কোনো আলামত পাননি। সেখানকার চিকিৎসক দল বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেসব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই অক্ষত আছে। বিস্ফোরণ হলে সেটা হওয়ার কথা নয়।

যদিও এটা বিস্ফোরণের সম্ভবনাকে একেবারে নাকচ করে দেয় না, কারণ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেভিড সোচি বলছেন, ‘বিস্ফোরণ খুব বড় হওয়ার দরকার নেই…সামান্য বিস্ফোরণেই বিমানের খোল বিদীর্ণ হতে পারে।’

এই দুর্ঘটনায় ২২৪ জন মানুষ মারা গেছেন, তার মধ্যে কমপক্ষে ৩০টি শিশু রয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদ হচ্ছে এই ৩৩ শিশুর মধ্যে একটা বড় সংখ্যক অনাথ।






মন্তব্য চালু নেই