মেইন ম্যেনু

রূপালী ইলিশে জেলেদের হাসি

টানা দেড় মাস ধরে ভোলার মেঘনা, তেতুলিয়া, ইলিশা নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ। ভোলার মৎস্য ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, মৌসুমের চেয়ে এখন ইলিশ ধরা পড়ছে দ্বিগুনেরও বেশি। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় রূপালী ইলিশে হাসি ফুটেছে জেলেদের।

মৎস্য বিভাগ জানায়, জলবায়ু ও নদ-নদীর পানি প্রবাহের তারতম্যের কারণে ইলিশ ধরা পড়ার মৌসুমও অনেকটা বদলে গেছে। যে কারণে ভোলা জেলার মেঘনা, তেতুলিয়া ও ইলিশা নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ।

গত বছরের আগস্টের শেষে কিছু ইলিশ পাওয়া গেলেও নভেম্বরের শুরুতে ভোলার নদ-নদীগুলো প্রায় ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছিল। যে কারণে অনেক জেলে তাদের মাছ ধরার জাল ও সরঞ্জাম শিকোয় তুলে রেখেছিলেন। নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকৃতিকে অবাক করে ভোলার নদ-নদীতে আবারও ইলিশ ধরা পড়ার ধুম লেগে যায়। বর্তমানে ইলিশের সমারোহ তাক লাগানোর মত। ভরা মৌসুমেও এত ইলিশ মেলেনি।

জেলেরা জানান, ভোলার জেলেপল্লীতে বইছে ইলিশ উৎসবের আমেজ। রাতদিন উপেক্ষা করে জেলেরা জাল ও ট্রলার নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন নদীর গহীনে। রাশি রাশি ইলিশ শিকার করে মেঘনা, তেতুলিয়া, ইলিশা নদীতে জেলেরা ঘাটে ফিরছেন ভরপুর আনন্দ নিয়ে।

মেঘনা নদীর জেলেরা জানান, গত বছর একই সময় নদীতে জাল ফেলে তারা পোয়া, তপসি, বেলে, বাটা মাছসহ কিছু জাটকা ইলিশ ধরতে পেরেছিলেন। বড় ও মাঝারি সাইজের কোনো ইলিশ গত বছর তারা পাননি। চলতি বছর ইলিশ মৌসুমেও তারা এত ইলিশ মেলাতে পারেননি।

গত দেড়মাস ধরে নদীতে ইলিশের সমারোহ ভোলার জেলেদের কপালে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে মৌসুম না হলেও এ সময়ে ইলিশের ভরপুর থাকায় জেলেদের পক্ষে মহাজনের দাদনের টাকা সহজেই পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

দৌলতখানের জেলেরা জানিয়েছেন, তারা ইলিশ মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে মাছ ধরার জাল ও সরঞ্জাম উঠিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে নদীতে ইলিশের সমারোহ বেড়ে যাওয়ায় তারা আবার জাল ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে মেতে উঠেছেন। বাজার দর ভাল থাকায় সব খরচ বাদ দিয়েও তাদের হাতে থেকে যাচ্ছে বাড়তি লভ্যাংশ।

ভোলাখাল মাছঘটের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহে তিনি ঢাকার সোয়ারীঘাট ও কাপ্তান বাজারে ত্রিশ লাখ টাকার ইলিশ পাঠিয়েছেন। ভোলার উল্লেখযোগ্য মাছঘাট খরকি কাঠিরমাথা, ভাংতিরখাল ও বিশ্বরোড মাছঘাট থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই কোটি টাকার ইলিশ ঢাকা বরিশাল আড়তে পাঠানো হচ্ছে।

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, আগে ইলিশ মাছ আহরণের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকলেও ক্রমেই তা বদলে যাচ্ছে। নাব্যতা সংকট এবং জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাবে এমনটি হতে পারে জলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য অফিসার।






মন্তব্য চালু নেই