মেইন ম্যেনু

রেকর্ড সংখ্যক শরণার্থী স্বেচ্ছায় জার্মানি ছেড়েছে

২০১৬ সালে প্রায় ৫৫ হাজার অভিবাসী স্বেচ্ছায় জার্মানি ত্যাগ করেছে। এই শরণার্থীদেরকে জার্মানিতে আশ্রয় দেওয়া হয়নি অথবা এদেরকে আশ্রয় পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

ফলে তারা স্বেচ্ছায়ই জার্মানি ত্যাগ করেছেন। ২০১৫ সালে জার্মানি ত্যাগকারী এমন অভিবাসীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ হাজার।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জার্মানি এর অভিবাসন বিষয়ক অবস্থান আরো কঠোর করেছে। নিরাপত্তা এবং আত্মীকরণ ইস্যুতে নান উদ্বেগের কারণে এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে জার্মানি। ২০১৫ সালের শুরুর দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা অন্তত ১১ লাখ অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে জার্মানি।

বিশাল সংখ্যক অভিবাসীর স্বেচ্ছায় জার্মানি ত্যাগের এই ঘটনায় খুশি জার্মান কর্তৃপক্ষ। জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেরাল্ড নেইম্যানস বুধবার বলেন, জার্মানি ত্যাগকারী অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে চলার ঘটনাকে আমরা স্বাগত জানাই। অভিবাসীদেরকে জোর-পূর্বক জার্মানি ত্যাগে বাধ্য করার চেয়ে বরং স্বেচ্ছায় জার্মানি ত্যাগের বিষয়টিকে সবসময়ই উৎসাহিত করা হয়ে আসছে। ”

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ২০১৭ সালে অভিবাসীদেরকে জার্মানি ত্যাগে সহায়তা করতে সরকার অর্থ সহায়তার পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো করবে।

গত সপ্তাহে জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি না পেয়ে ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএস এর প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী এক অভিবাসী বার্লিনে হামলা চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করে। বার্লিনের একটি ক্রিসমাস মার্কেটের ওপর ট্রাক চালিয়ে দিয়ে ওই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেলের সহজ অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২০১৬ সালে জার্মানি ত্যাগকারী অভিবাসীরা নিজ দেশ আলবেনিয়া, সার্বিয়া, ইরাক, কসভো, আফগানিস্তান এবং ইরানে ফিরে যান।

যারা নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে তাদেরকে জার্মান সরকারের পক্ষে থেকে ৩ হাজার ইউরোর এককালীন অর্থ সহায়তা করা হচ্ছে। যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান করতে পারেন।

এছাড়া সীমান্ত থেকেও অভিবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ২০১৬ সালের প্রথম ১১ মাসে জার্মান সীমান্ত থেকে পুলিশ ১৯,৭২০ জন অভিবাসীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮,৯১৩ জন।

এদের বেশিরভাগই এসেছে আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাক এবং নাইজেরিয়া থেকে। এরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলোতে অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছেন।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার






মন্তব্য চালু নেই