মেইন ম্যেনু

রেডলাইনে সন্তুষ্ট এভিয়েশন কর্মকর্তারা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া ব্যয়বহুল ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তোলা হলেও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রেডলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত দুই শতাধিক জনবল দক্ষ ও সমৃদ্ধ সম্পদে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মেম্বার অপারেশন ও প্ল্যানিং মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি বছরের মার্চ থেকে ব্রিটিশ এই প্রতিষ্ঠানটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় জড়িতদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে। এখন পর্যন্ত ২০৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে রেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটি এখন যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া আরো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনবল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।

প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক হিসেবে চুক্তি হলেও প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র লন্ডনভিত্তিক ফ্লাইটের তদারকি করছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এমন ঢালাও মন্তব্য ঠিক নয়। বাহির থেকে যেসব ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরের অবস্থা তেমন নয়।

গত কয়েকদিনে শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপত্তাকর্মীরা আগের চেয়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। রেডলাইন সিকিউরিটির কারণে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে অনেকাংশে।

জানা গেছে, রেডলাইন দায়িত্ব নেয়ার আগে যাত্রীদের সঠিকভাবে স্ক্যানিং করা এবং মালামাল ট্যাগ করার যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার করা হতো না। বিমানবন্দরে যারা স্ক্যান করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ না থাকায় চোরাচালানসহ নানা অপরাধ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক।

রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তির পর গত ২৪ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩১ জন সদস্য (প্রশিক্ষক, ব্যবস্থাপক ও স্ক্রিনার) শাহজালালে নিয়োজিত হন। ওই সময় থেকে রেডলাইন বোর্ডিং গেট-২ এ লন্ডনগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের পরিচালনা তদারকি শুরু করে। বেবিচকের নিরাপত্তাকর্মী ও স্ক্রিনারদের প্রশিক্ষণের পর গত ২৪ এপ্রিল থেকে পুনরায় সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মীরা লন্ডন ফ্লাইটের দায়িত্ব নেন।

এখন পর্যন্ত গ্রাউন্ড সিকিউরিটি অফিসার ৪০ জন, গ্রাউন্ড সিকিউরিটিস সুপারভাইজার ৫ জন, কার্গো অপারেটিভ স্ক্রিনার ১০ জন, ডসনিয়র কার্গো অপারেটিভ ৮ জন, কার্গো অপারেটিভ ২৭ জন, ইটিডি অপারেটর ১০ জন রেডলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া কিছু বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করবে রেডলাইন। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইন্সপেক্টর কোর্স, এয়ারপোর্ট ম্যানেজার কোর্স, ট্রেইনার কোর্স, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কোর্স।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিমান ও সিএ উইং) জিয়াউল হক বলেন, রেডলাইনের প্রশিক্ষণের ফলে অনেকটা উন্নতি ঘটেছে। অনেক কর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, অনেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণের পুরো ফল পেতে আরো সময় লাগবে, অল্প সময়ে পরিবর্তন বোঝা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে মিসরের অবকাশ নগরী শার্ম-আল-শেখের আকাশে একটি রুশ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন সিকিউরিটি বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ১৮টি দেশের ৩০টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করার সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ছিলো।

এ বিষয়ে এভিয়েশন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশকে তাদের অবজারভেশন দেয়। এ ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এয়ারফোর্স, পুলিশ এবং আনসারের সমন্বয়ে এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স গঠন করা হয়।

গত ৮ মার্চ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠির মাধ্যমে জানান, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহন আপাতত স্থগিত থাকবে। এছাড়া চিঠিতে তিনি ৩১ মার্চের মধ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়। তাদের পরামর্শে রেডলাইন সিকিউরিটিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।






মন্তব্য চালু নেই