মেইন ম্যেনু

রোগী দেখার বিষয়ে ইসলাম কি বলে?

মানব জীবনে বিপদ-আপদের যতগুলো ক্ষেত্র আছে, তার মাঝে অসুস্থতা অন্যতম। দুনিয়াবী জীবনে মানুষ যে কত বড় অসহায়, তার বাস্তব উপলব্ধি ঘটে অসুস্থ অবস্থায়। এমত পরিস্থিতিতে কোনো শত্রুও যদি দেখা করতে আসে বা তার সাহায্যে এগিয়ে আসে, তবে সে তাকে আর শত্রু মনে করে না। সে তখন তার নিকট পরম বন্ধুতে পরিণত হয় এবং তার অন্তরে ওই শত্রুর জন্য আলাদা একটা জায়গা সৃষ্টি হয়। তাই রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া বা সাধ্যমতো তার দেখ-ভাল করা ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধির একটা বড় উপায়।

রুগ্ন ব্যক্তির দেখা-শোনার বিষয়টি ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাবে এবং জানাযার অনুসরণ করবে (কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করবে) তাহলে তা তোমাকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। -আল আদাবুল মুফরাদ

একজন মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য (হক) সম্পর্কে যে কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিতে ‘রোগীর পরিচর্যা’র বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে। এছাড়াও কিয়ামতের ময়দানে রুগ্ন ব্যক্তির পক্ষে মহান আল্লাহ নিজেই ফরিয়াদী হয়ে আদম সন্তানকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি রুগ্ন ছিলাম তুমি পরিচর্যা করোনি।’ -মুসলিম

রুগ্ন ব্যক্তির সেবার মাধ্যমে প্রভুর নৈকট্য লাভ করা সহজ। রোগী পরিচর্যার ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোনো রুগীর পরিচর্যা করে, সে রহমতের মধ্যে ডুব দেয়, এমনকি সে যখন সেখানে বসে পড়ে, তখন তো রীতিমতো রহমতের মাঝে অবস্থান করে’। -আল আদাবুল মুফরাদ

হজরত আবু আসমা (রা.) হতে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি তার কোনো রুগ্ন ভাইকে দেখতে যায়, সে জান্নাতের ফলমূলের মধ্যে অবস্থান করবে।’ -আল আদাবুল মুফরাদ

অনুরূপ একটি হাদিস সহিহ মুসলিম শরিফেও বর্ণিত হয়েছে। হজরত ছাওবান (রা.) নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘মুসলমান যখন তার রুগ্ন মুসলমান ভাইকে দেখতে যায়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ‘খুরফার’ মধ্যে অবস্থান করতে থাকে। জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! জান্নাতের খুরফা কি? উত্তর দিলেন, তার ফলমূল।’-মুসলিম

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি কোনো রুগ্ন ব্যক্তির পরিচর্যা করলে অথবা আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার কোনো ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে, একজন আহবানকারী (অন্য বর্ণনায় রয়েছে আল্লাহতায়ালা) তাকে ডেকে ডেকে বলে, তুমি উত্তম কাজ করেছ, তোমার পদচারণা উত্তম হয়েছে এবং জান্নাতে তুমি একটি ঘর তৈরি করে নিয়েছ।’- তিরমিজি

হজরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘এমন কোনো মুসলমান নেই যে সকালবেলা কোনো মুসলমান রোগীকে দেখতে যায়, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া না করে। আর সন্ধ্যাবেলা কোনো রোগী দেখতে যায় এবং সকাল পর্যন্ত তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া না করে। আর তার জন্য জান্নাতে একটি ফলের বাগান সুনির্ধারিত করে দেয়া হয়।’ –তিরমিজি

রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে নবী করিম (সা.) তাদের জন্য নিম্নোক্ত দোয়া করতেন—

‘আজহিবিল বাছা রাব্বান-নাসি, ওয়াশফি আনতাশ শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিয়ায়ুকা- শিফায়ুন লা ইউগাদিরু সাকামান।’

হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) স্বীয় পরিবারের কোনো রোগীকে দেখতে গেলে তার গায়ে হাত রেখে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! হে মানুষের প্রভু! রোগ দূর কর, রোগ-মুক্তি দান কর। তুমিই রোগ-মুক্তি দানকারী। তোমার রোগ-মুক্তি ছাড়া কোনো রোগ-মুক্তি নেই। এমন রোগ-মুক্তি কোনো রোগ বাকী রাখে না।’ –বোখারি

ইসলামি শরিয়তে রোগী দেখার বিধান শুধু মুসলমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব রুগ্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ হুকুম সমভাবে প্রযোজ্য। দেখুন, এই হাদিসই তার প্রমাণ-

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ইহুদি ছেলে নবী করিম (সা.)-এর সেবা করত। একদিন সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। তখন নবী (সা.) তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসলেন। তারপর তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে তার পিতার দিকে তাকাল। তার পিতা তার কাছেই ছিল। তখন তার পিতা বলল, তুমি আবুল কাসেমের আনুগত্য কর। তখন ছেলেটি ইসলাম গ্রহণ করল। অতপর নবী (সা.) এই কথা বলতে বলতে সেখান থেকে বের হলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’ –বোখারি






মন্তব্য চালু নেই