মেইন ম্যেনু

রোগের নাম ডাবল ভিশন

আপনি কারও দিকে তাকিয়ে তাঁর পাশে বা পেছনে অবিকল আরেকজনকে দেখতে পাচ্ছেন? পানি পান করতে গিয়ে টেবিলে পাশাপাশি দুটো গ্লাস দেখে বিভ্রম হচ্ছে—কোনটা আসল? চমকে উঠছেন? ভাবছেন ভুতুড়ে ব্যাপার নাকি? না, ব্যাপারটা সে রকম নয়। চোখের একধরনের সমস্যার কারণে এমনটা হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগটিকে বলা হয় ডিপলোপিয়া বা ডাবল ভিশন।

কেন দুটো দেখা যায়

আমাদের প্রতিটি চোখ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং বস্তুর ছবি শনাক্ত করে। কিন্তু তার পরও দুটো চোখ আলাদা করে দেখে না, কেননা আমাদের মস্তিষ্ক এমন নিখুঁতভাবে চোখের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেশিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যে দুটো চোখের দৃষ্টি একটি বস্তুতেই নিবদ্ধ (ফোকাস) হয়।

মস্তিষ্ক তখন দুই চোখের তৈরি ছায়া বা ইমেজ দুটোকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখে। এই ক্ষমতার নাম সিঙ্গেল বাইনোকুলার ভিশন। কিন্তু কোনো কারণে চোখের এই পেশিগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা দুর্বল হয়ে পড়ে বা মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতে কোনো সমস্যা হয়—তখন মানুষের দৃষ্টিব্যবস্থার এই ক্ষমতায় ছেদ পড়তে পারে। আর তখন কোনো একটি বস্তু একই সঙ্গে দুটো, তিনটে, পাশাপাশি বা ওপর-নিচে আছে বলে মনে হতে পারে।

সমস্যার নেপথ্যে

বস্তুর ছবি চোখের স্বচ্ছ কর্নিয়া ভেদ করে প্রবেশ করে। এটা অনেকটা জানালার মতো। তারপর আছে লেন্স, যা ছায়াটিকে কেন্দ্রীভূত করে বা ফোকাস করে রেটিনার ওপর ফেলে। ছবিটা মস্তিষ্ক পর্যন্ত নিয়ে যায় স্নায়ু। এসব জায়গার যেকোনো একটিতে সমস্যা হলে বস্তুকে দুটো করে দেখা যাবে। কর্নিয়ায় কিছু সংক্রমণের (যেমন কর্নিয়ায় আঘাত বা শুষ্কতা) জন্য ছবি প্রবেশে সমস্যা হয়। লেন্স ঘোলা হলে বা ছানি পড়লেও এই সমস্যা হতে পারে। চোখের পেশিগুলো ঠিকমতো কাজ না করতে পারলে চোখ ঠিকমতো দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারে না।

এ ধরনের সমস্যা হতে পারে থাইরয়েডের রোগে বা মায়েস্থেনিয়া, মালটিপল স্কেলরসিস, গুলে ব্যারি সিনড্রোম ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হলে। এসব ক্ষেত্রে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিসের কারণে ¯স্নায়ু দুর্বল হলেও এ সমস্যা হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক এবং টিউমারের মতো সমস্যার প্রভাবেও দুটো দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সমাধান কী

অনেক সময় সাধারণ অবস্থায়ও আমরা হঠাৎ দুটো করে দেখতে পারি। যেমন দ্রুতগতিতে ছুটে চলা যানবাহনে বসে বা দূরবর্তী কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বা দীর্ঘ সময় চোখের কাজ করার পর চোখের পেশিগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়লে। সমস্যাটা শিশুদেরই বেশি হয়, আর একে বলে ফিজিওলজিক্যাল ডাবল ভিশন।

কিন্তু বারবার এবং স্বাভাবিক অবস্থায়ও এমনটা হতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত। তারপর রোগ বুঝে চিকিৎসা। যেমন পেশি বা লেন্সের সমস্যায় শল্যচিকিৎসা বা অন্য কোনো রোগের জন্য সেই রোগের ওষুধ। সমস্যাটা মস্তিষ্কে হলে তার চিকিৎসা জরুরি।

চক্ষু বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল






মন্তব্য চালু নেই