মেইন ম্যেনু

রোজায় অবর্ণনীয় সঙ্কটে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনবাসী

রোজা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবর্ণনীয় সংকটে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকরা। দেশটিতে বর্তমানে যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও অনেক এলাকায়ই তা মেনে চলছে না বিবদমান গোষ্ঠিগুলো।

এমনিতেই লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী রাষ্ট্র ইয়েমেনে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। তার ওপর থাকেনা বিদ্যুৎ। সব মিলিয়ে রোজার সময় সারাদিন না খেয়ে থাকা সত্যিকার অর্থেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়েমেনবাসীর জন্য।

দেশটির হুদেদা এলাকার বাসিন্দা আবদু আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা শুধু দারিদ্র্যেরই শিকার না; বরং বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়া এবং পানির ভয়ানক সংকটে আছি আমরা। এর কারণে বয়োঃজ্যেষ্ঠ এবং শিশুদের মধ্যে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের জীবন সংকটে। তবুও আমাদের সব কিছুই সহ্য করতে হচ্ছে।’

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেন সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে ছয় হাজার চারশোর বেশি মানুষ। গৃহহারা হয়েছে অন্তত ২৮ লাখ মানুষ। বর্তমানে মানবিক সাহায্য দরকার দেশটির ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের। খাদ্য, জ্বালানি আর ওষুধ সরবরাহের যথেষ্ট ঘাটতি আছে ইয়েমেনে।

অর্থনীতিবিদ আবদুস সালাম আল মাহতুরি বলেন, ‘ইয়েমেনের ইতিহাসে চলতি বছর হতে পারে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। বিশেষ করে রোজার মাস শুরু হওয়ায়। গত ১৪ মাস ধরে বিভিন্ন এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে থাকার ফলে দ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে সন্দেহ নেই।’

এখানো ইয়েমেনে কোনো দ্রব্য বাইরে থেকে আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক জাহাজ বন্দরে মাল খালাস করতে পারছে না। চলতি বছর দেশটির সংকট মোকাবেলায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ শতাংশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।






মন্তব্য চালু নেই