মেইন ম্যেনু

লজ্জায় ফিশ্চুলা রোগ গোপন রাখে নারীরা

বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, নারীদের ফিশ্চুলা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বিলম্বিত এবং বাধাগ্রস্ত প্রসবের বিষয় ছাড়াও এখন নানা ধরণের অপারেশনের কারণেও নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।এমন রোগীরা অসহনীয় শারিরীক যন্ত্রণার পাশাপাশি সমাজ এবং পরিবারে অবহেলা ও অবমাননার শিকার হয়ে থাকেন।

নোয়াখালীর প্রত্যন্ত গ্রামের সানু বেগম ছয়দিন আগে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ফিসচুলা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন।

এখানে তিনি তাঁর রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছেন। এর আগে এলাকায় বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে কোন ফল পাননি।
দুই সন্তানের মা সানু বেগমের জরায়ুতে ইনফেকশনের কথা বলে এলাকায় চিকিৎসক তা অপরেশন করেছিল পাঁচ মাস আগে। তখন থেকেই তাঁর এই সমস্যা।

সানু বেগম চিকিৎসার জন্য স্বামীর সাহায্য পাচ্ছেন। তবে বিশ বছর ধরে ফিসচুলা রোগে ভুগছেন আকলিমা বেগম।
আক্রান্ত হওয়ার পনেরো বছর পর প্রথম চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন।

এই সময়টাতে পরিবার এবং প্রতিবেশিরা তাঁকে অবহেলার চোখে দেখতো। সেই পরিস্থিতি তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

“সব সময় কাপড় ভিজা থাকে। গায়ে গন্ধ হয়। লোকজনের কাছে যেতে লজ্জা লাগে। অনেক সময় নিজে নিজে কান্না করতাম।”

আকলিমা বেগম দু’বছর ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন তিনি অপারেশনের অপেক্ষায় আছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

সরকার বেসরকারি মিলিয়ে ঢাকা এবং বড় কয়েকটি শহরে আঠারোটি ফিশ্চুলা ইউনিট হয়েছে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে হাসপাতালে এ ধরণের রোগী খুব কম আসে।

ইনজেনারেল হেলথ নামের একটি সংস্থা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ফিশ্চুলা ইউনিটে সহায়তা করে।

এই সংস্থার চিকিৎসক শেখ নাজমুল হুদা বলছিলেন, এই রোগে প্রসবের রাস্তার সাথে মুত্রপথ মিলে গেলে সবসময় প্রস্রাব বেরোয়।

আবার মুত্রপথ এবং পায়খানার রাস্তা ও প্রসবের রাস্তা এক হয়ে গেলে প্রস্রাব এবং পায়খানা দু’টোই বেরুতে থাকে। শরীরে গন্ধ হয়।

এই চিকিৎসক উল্লেখ করেন, একদিকে অসহনীয় শারিরীক যন্ত্রণা এবং অন্যদিকে সমাজের অবহেলা এই রোগে আক্রান্তদের আরও অসুস্থ করে তোলে।

ফিসচুলা সচেতনায় কাজ করেন, এমন চিকিৎসকদের একজন আবু জামিল ফয়সাল বলছিলেন, ১০ বছর আগের পরিসংখ্যানে ফিশ্চুলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২০০০। এরপর আর কোন জরিপ হয়নি।

এখন আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি বলে তাঁর ধারণা।

মি. ফয়সাল আরও বলেন, বিলম্বে বা বাধাগ্রস্ত প্রসবকে আগে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা হতো।
এখন সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন কারণে নারীদের পেট এবংঅনেক সময় জরায়ুতে অপারেশন করা হয়। সেখানে চিকিৎসকের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসাও হয়।

এই অপারেশনের কারণেও ফিসচুলায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। ফলে এখন দুই কারণে উদ্বেগ বলে তিনি মনে করেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই