মেইন ম্যেনু

লজ্জা! আর নয়, জেনে নিন লজ্জা দূর করার জাদুকরি কৌশল

সন্দেহ নেই লজ্জা একটি সুন্দর আবেগ। লজ্জা মানুষকে ক্ষতিকর প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। লজ্জার কারণেই আমরা অশোভন কার্যকলাপ থেকে সাধারণত নিজেদের বিরত রাখি। লজ্জার কারণেই আমরা অনেক সময় লোভনীয় কিন্তু সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপ, যেমন চুরি, পরকীয়া প্রেম ইত্যাদি থেকে বিরত থাকি।

লজ্জার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে মুখ কান লাল হয়ে ওঠা। অভিযোগকারীর চোখের দৃষ্টি থেকে নিজের চোখকে নামিয়ে নেয়া, মুখ-কাঁধ নত হয়ে আসা। অর্থাৎ, লজ্জা পেলে আমরা অভিযোগকারীর সামনে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। কারও কারও মনে হয় মাটি ফাঁক হয়ে গেলে তার মাঝে হারিয়ে যেতে পারলেই যেন বাঁচা যেত। লজ্জা পাওয়ার অর্থ অনেকটা নিজেকে লুকিয়ে ফেলা। আর লজ্জা সবসময় যেহেতু নিজেকে লুকানোর চেষ্টায় লিপ্ত থাকে তাই লজ্জাকে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

লজ্জা স্বাভাবিকভাবে হিতকর হলেও এর অতিরিক্ত প্রভাব বা বিকৃত প্রভাব যে কোন মানুষের জীবনকে বিড়ম্বিত এমনকি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। লজ্জা তখন ক্রোধ, একগুঁয়েমি, অহঙ্কার, বিষণ্নতা, মৌনের মুখোশ পরিধান করতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, অধিকাংশ বিষণ্নতার ভিত্তি হচ্ছে লজ্জা। আবার হঠাৎ অস্বাভাবিক রাগের বহিঃপ্রকাশও ঘটতে পারে ছোটবেলার কোন লজ্জাকর ঘটনার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে।

লজ্জাকে অনেকে অপরাধবোধের সাথে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু এই দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আমরা করেছি বা করার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছি এমন কোন কাজের জন্যে খারাপ লাগা হচ্ছে অপরাধবোধ। যেহেতু এটি কাজের সাথে জড়িত তাই অপরাধকে স্বীকার করে নিয়ে, সে ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে নিষকৃতি পাওয়া যেতে পারে। কোন মন্দ বা খারাপ কাজের সাথে অপরাধবোধ জড়িত। আর লজ্জায় আমরা নিজেদেরই খারাপ মনে করে থাকি। তাই অপরাধবোধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সহজ, কিন্তু লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া কঠিন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রতিটি মানুষই কোন না কোন ধরনের লজ্জার শিকার হতে পারে। আমরা সাধারণত তিনটি ব্যাপারে লজ্জিত হই : দুর্বলতা, নোংরামি, ত্রুটি। নিজের শরীর নিয়েও লজ্জা থাকতে পারে। যেমন আমি একটু খাবার কমাতে পারলে এ রকম মোটা হতাম না। বা, নাকটা কী বিশ্রী! আমার পা কেমন ছোট আর দুর্বল। আমরা এ ধরনের লজ্জাকে সুপ্ত লজ্জা বলে অভিহিত করতে পারি।

সুপ্ত লজ্জায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবসময় লজ্জা ও গর্বের নাগরদোলায় দুলতে থাকে। সাফল্য এদের সাময়িকভাবে গর্বের পথে নিয়ে যায়, আবার যে কোন ছোটখাট ব্যর্থতাও এদের মধ্যে লজ্জা ও অক্ষমতার অনুভূতিকে চাঙ্গা করে তোলে। এই সুপ্ত লজ্জার হাত থেকে যত নিষ্কৃতি পাওয়া যায়, ততই জীবন আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। সুপ্ত লজ্জার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে নিন্মোক্ত ৫টি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

এমন অনেকেই আছেন যারা বাহিরে কোথাও কথা বলতে বেশ লজ্জা করে থাকেন। নিজেকে কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারেন না এরা। অফিসের কোনো আলোচনা সভায় বা বন্ধুদের আড্ডার আসরেও এরা ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। এরা অনেকটা অন্তর্মুখী ধরনের হয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা কিছু জানেন না তা নয় কিন্তু নিজেদের গুণগুলোকে প্রকাশ করতে এরা অনেক বেশি লজ্জা পেয়ে থাকেন। নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। আপনি যদি এমন ধরনের একজন হয়ে থাকেন তাহলে আজই নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। কেননা এই প্রতিযোগিতার যুগে আপনি এভাবেই নিজেকে প্রকাশ করতে লজ্জা পেয়ে থাকলে কোনোভাবেই নিজের অবস্থানটিকে দৃঢ় করতে পারবেন না। সফলতা আপনার জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তাই কিছুটা হলেও নিজেকে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।

১. কোনো কথা মুখে আনা মানে বলে ফেলা না, কথাটিকে বলে ফেলুন :
ধরুন আপনি একটি আলোচনা সভায় বসে আছেন। সেখানে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে যা আপনার অনেক পছন্দের একটি বিষয় এবং এটি সম্পর্কে আপনি যথেষ্ট জানেন।

কিন্তু খেয়াল করে দেখুন আপনি চাইছেন আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে, দুই তিনটি লাইন বলতে, আপনি ভাবছেন বলবেন কিন্তু আপনি ঠিক বলে উঠতে পারছেন না, আপনার বুক কাঁপছে, ভাবছেন বলবেন কি বলবেন না এবং শেষ পর্যন্ত দেখা গেল আপনি বলতে পারলেনই না। আপনি নিজেকে প্রকাশ করতে লজ্জা পেলেন বলেই আপনি বলতে পারলেন না।

এই অপারগতার কারণে আপনার সম্পর্কে কেউ জানলেনও না যে আপনি বিষয়টি অনেক ভালো জানেন। এমন ধরনের লজ্জা কাটিয়ে উঠতে আপনি এর জন্য বাসাতেই কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। বেশি বেশি কথা বলার অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে বন্ধুদের আসরে বেশি কথা বলুন। বন্ধুদের মাঝে ভুল বললেও তো তেমন কোনো সমস্যা নয়। নিজের প্রতি কনফিডেন্স বাড়িয়ে তুলুন। নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। লজ্জার খোলস থেকে নিজেকে মুক্ত করে আনুন।

২. কখনই না বলবেন না :
আপনি নিজের লজ্জাটিকে যদি সত্যিই কাটিয়ে উঠতে চান তাহলে যে কোনো জায়গায় আপনার যা বলতে ইচ্ছা করে তাই বলবেন, না বলবেন না। মনে রাখবেন ‘না’ শব্দটি আপনার জীবনের বড় একটি শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে চাইলে আপনার জীবন থেকে না শব্দটিকে বাদ দিয়ে দিন। কখনই না বলবেন না। আপনি বলতে পারেন এবং নিজেকে প্রকাশ করতে পারবেন এটাই সত্যি কথা। এর বিপরীতে কোনো কথাই হতে পারে না।

৩. চোখ হল ভালো কথোপকথনের জানালা স্বরুপ :
চোখ দিয়েই পৃথিবীর সমস্ত ভাষা বোঝা যায় এবং বলা যায়। তবে আপনার এই লজ্জা ছাড়াতে চোখ একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাকে এর জন্য চোখের খেলা খেলতে হবে। আপনি সবকিছুই দেখঝেন ঠিকই সাথে সাথে দৃষ্টি বিনিময়ও করবেন। মনে রাখবেন আপনার সমস্ত লজ্জা থাকে চোখের মাঝে। তাই লজ্জা নিবারণে চোখের খেলা খেলুন। আপনি চাইলে চোখ দিয়েই বুঝিয়ে দিতে পারেন যে আপনি কোনোভাবেই লজ্জা পাচ্ছেন না। আপনি কথা বলতে পারেন।

৪. একমাত্র আপনিই পারেন একটা মজাদার আলোচনার বিষয় বের করতে :
নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সব সময় ভাবুন যে আপনি কি কি পারেন আর সবাই কি কি পারে না। নিজেকে প্রকাশ করার শক্তি ধারণ করুন। ভাবুন যে একমাত্র আপনিই আছেন যে কি না মজাদার সব বিষয় নিয়ে একটি আলোচনার সভা জমিয়ে রাখতে পারেন। নিজেকে বিশ্বাস করুন যে আপনি পারবেন। লজ্জা ঠিক আপনার সাথে পেরে উঠবে না। আপনি লজ্জাকে জয় করতে পারবেন।

৫. প্রতিবন্ধকতা দূর করুন :
আপনার যত ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে আপনার উচিৎ সবগুলোকে দূর করে ফেলা। আপনি নিজেকে যাচাই করে দেখুন আপনার কি ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে দূর করার চেষ্টা করুন। যদি মনে করেন যে গুটি কয়েক সমস্যার কারণে আপনি লজ্জাগুলোকে ঠিক ভেঙ্গে বের হতে পারছেন না, তাহলে সেই সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনি পারবেন লজ্জা কাটিয়ে সবার সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে।






মন্তব্য চালু নেই