মেইন ম্যেনু

লজ্জিত নিবরাসের বাবা-মাও, চেয়েছেন ক্ষমা

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলাকারীদের একজন নিবরাস ইসলামের বাবা-মা নির্মম এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’। জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজের বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুলও মঙ্গলবার ভারতীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশবাসীর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন।

নিবরাসের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা লায়লা বিলকিস গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঘটনার আড়ালে থেকে যারা তরুণদের বিপথগামী করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি করেন তারা।

নিবরাস সৎ, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল বলেও দাবি করেন তারা। বলেন, ‘নিবরাসের সহপাঠীরা সবাই জানে সে কতটা বিনয়ী ও শান্ত ছিল। সে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। সেখান থেকে উন্নত শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে সে বাংলাদেশে আসে এবং ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে নিখোঁজ হয়। যাওয়ার সময় সে একটি চিরকুট লিখে যায়। বলে তার জন্য দোয়া করতে। সে ফিরে আসবে।’

তারা আরো বলেন, ‘ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। আমরা দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে এ ব্যাপারে জানাই। তার সঙ্গে আরও যারা নিখোঁজ হয় তাদের পরিবারও জিডিতে নিবরাসের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে। গত পাঁচ মাস সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও নিবরাসকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে তাকে ফিরে আসার জন্য আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় করি। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। অবশেষে গত ২ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির হামলায় সে জড়িত ছিল বলে আমরা জানতে পারি। আমাদের ছেলে এই হামলায় জড়িত বিষয়টি জানতে পেরে আমরা লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।’

‘যারা স্বজন হারিয়েছেন, বন্ধুকে হারিয়েছেন, নিবরাসের বাবা-মা হিসেবে তাদের প্রতি শোক প্রকাশের ভাষা আমাদের জানা নেই। নিবরাস নিজে হাতে ভাত মেখে খেতে পারত না। সেই ছেলের হাতে যারা অস্ত্র, গোলা-বারুদ তুলে দিল, আল্লাহর দরবারে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, যারা নিবরাসের মতো তরুণদের বিপথগামী করছে, তাদের প্রত্যেককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে কঠোর সাজা দেবে। সবশেষে আমরা আবারও ক্ষমা চাই, পুরো জাতি, দেশের মানুষ ও বিশ্ববাসীর কাছে।’ যোগ করেন নিবরাসের বাবা-মা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার হলি আর্টিসান বেকারি নামের রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গ্রেনেডে প্রাণ যায় ডিবির এসি রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খানের।

পরে শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে জিম্মি সঙ্কটের অবসানের পর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং একজন ধরা পড়েছে। অবশ্য নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে পরে হামলাকারী হিসেবে সনাক্ত করা হয়।

শনিবার সকালে উদ্ধার ১৩ জনসহ ২৭ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে। পরে তাদের বক্তব্য শুনে যাচাই-বাছাই করে অনেককে ছেড়ে দেয়া হয়। আবার কেউ কেউ এখনো আটক রয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই