মেইন ম্যেনু

লন্ডনে বেশ স্বচ্ছন্দেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন মোস্তাফিজ

সাসেক্স ক্লাবের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ও রয়েল লন্ডন ওয়ান ডে কাপ খেলতে এসে চোটে পড়া মুস্তাফিজুর রহমান এখন অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় লন্ডনে অবস্থান করলেও বেশ স্বচ্ছন্দেই আছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ইংল্যান্ডেই ক্রিকেট বিশ্বে সারা জাগানো এই পেসারের অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা রয়েছে। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সাথে পরামর্শ করে একজন অভিজ্ঞ শল্যবিদের মাধ্যমে ইংল্যান্ডেই তার কাঁধের অস্ত্রোপচার হতে পারে।

বাংলাদেশের মোহামেডান ক্লাবের ক্রিকেট সংগঠক এবং সেন্ট পিটার্স কলেজ অব লন্ডনের অধ্যক্ষ এজিএম সাব্বিরের ইলফোর্ডের বাসবভবনে কাটার মাস্টারের দিন ভালোই কাটছে।

সাব্বির বললেন, “সাসেক্সের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে চোটে পড়ে খেলতে পারছেন না বলে এবং ইংল্যান্ডের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের সময় দেশের হয়ে খেলতে না পারার আশংকায় মুস্তাফিজের মন মাঝে মাঝে বিষন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু আমাদের সাথে আড্ডা দিয়ে এবং বিশেষ করে আমার দুই ছেলের সাথে সময় কাটিয়ে হাসিখুশি সময় কাটাচ্ছে সে। বাড়ির পেছনের আঙিনায় ১১ বছরের রাহিল এবং চার বছরের রাকিনের সাথে ক্রিকেটও খেলছে। অফুরন্ত অবসর সময় পেয়ে ওদের সাথে ইউটিউব দেখছে। দুই বছরের কন্যা জুনাইরাও নাস্তা খাওয়ার জন্য আধো-আধো বাংলায় আংঙ্কেলকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে ডাইনিং টেবিলে।”

“আইপিএলে গিয়ে ভারত কাঁপিয়ে আসা মুস্তাফিজ সাসেক্স ক্লাবে খেলতে এসে ইংল্যান্ডকেও কাঁপিয়ে দিতে চেয়েছিল। চোটের জন্য এই দফা তার ইংল্যান্ড কাঁপানো সম্ভব হলো না বলে এবং বাংলাদেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে না পারার আশংকা থেকে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হোম সিক বলতে যা বোঝায় তা মোটেও নেই। বাংলাদেশের আরেক পেস বোলার মোহাম্মদ শরীফও সুযোগমতো চলে আসেন আড্ডা দিতে।”

সাব্বির জানালেন, বিলেতের মাটিতে এত সমর্থক দেখে মুস্তাফিজও আনন্দিত হয়েছেন। যেখানে ম্যাচ খেলতে গিয়েছে, সেখানেই প্রবাসী বাঙালিরা ছুটে গিয়েছেন। এগুলো দেখে মুস্তাফিজের খুব ভালো লেগেছে। মুস্তাফিজ বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই কাটাচ্ছেন। তবে সাব্বির যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই তাকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে গেছেন। গাড়িতে করে তাকে ব্রিটেনের রাজপ্রাসাদ বাকিংহ্যাম প্যালেস, লন্ডন আইসহ বিভিন্ন আইকনিক স্থাপনা দেখিয়েছেন।

লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড টিউব রেলে করেও মুস্তাফিজকে নিয়ে ঘুরেছেন বলে জানান সাব্বির। বড় ছেলে রাহিলসহ মুস্তাফিজকে তারা টিউবে করেই লন্ডন ব্রিজ হাসপাতালে কাঁধ, কনুই ও ঊর্ধ্বাঙ্গের সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জন টনি কোচারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। টনি কোচার ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের স্পোর্টস সায়েন্স এর চেয়ার।

সাব্বির জানান, মুস্তাফিজকে নিয়ে তিনি লন্ডনের ব্যস্ততম শপিং সেন্টার অক্সফোর্ড স্ট্রিট এবং এসেক্সের ব্রেইনট্রি শপিং সেন্টারে গিয়েছিলেন। ব্রেইনট্রি শপিং সেন্টার থেকে মুস্তাফিজ দুই জোড়া জুতো, এক জোড়া স্যান্ডেল এবং একটি ট্রাউজার কিনেছে। দুই জায়গাতেই বাঙালিরা মুস্তাফিজকে দেখে তার সাথে ছবি তোলার জন্য ঘিরে ধরেন।

মুস্তাফিজ সাসেক্স ক্লাবে খেলবে জেনে বাঙালি ক্রিকেটাররার খুবই চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। চোটের কারণে মুস্তাফিজ সাসেক্সের হোম গ্রাউন্ড হোভে কোনো ম্যাচ খেলেননি বলে ওই এলাকার বাঙালি সমর্থকরা, বিশেষ করে বাঙালি ক্রিকেটাররা দারুন হতাশ। তারা অবশ্য সেই দু:খ কিছুটা ভুলেছেন সাবাস ক্রিকেটার্স নামে একটি সংগঠন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুস্তাফিজকে কাছে পেয়ে।

১০/১২ বছর আগে হোভ এর কাছে হেওয়ার্স হিথে সাবাস ক্রিকেটার্স প্রতিষ্ঠা করেন রুহুল হুদা চৌধুরী এবং এবং শাহেদ শামস। বোববার রাতে সাবাস ক্রিকেটার্স কাছের টার্নাস হিলে মুস্তাফিজের সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল। প্রায় ৩৫ জন বাঙালি ক্রিকেটার এতে যোগ দিয়েছিল। সাব্বির রোববার মুস্তাফিজকে নিয়ে গিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। টেলিফোনে যোগাযোগ করলে রুহুল জানান, মূলত বাঙলি ক্রিটোররাই এই সংগঠনের সদস্য।

তবে স্থানীয় ইংলিশ এবং অন্যান্য কমিউনিটির সদস্যরাও রয়েছে এই ক্লাবে। রুহল সাসেক্স ক্লাবে কাজ করেন। তিনি কমিউনিট কোচ ও সাসেক্স লিগের প্যানেল আম্পায়ারও। মুস্তাফিজ সাসেক্স ক্লাবে যোগ দেয়ার পর রুহুলের ওপরই ক্লাব থেকে দায়িত্ব বর্তেছিল দোভাষী থেকে শুরু করে মুস্তাফিজের দেখাশোনা করার। সাবাস ক্রিকেটারদের এই সংবর্ধনায় মুস্তাফিজ তার নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বাঙালি ক্রিকেটারদের ভালো ক্রিকেটার হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন বলে রুহুল জানান। তরুণদের উদ্দেশ তিনি বলেন, “তোমরা ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাবে এবং আশা করি, ভবিষ্যতে তোমরাও সুপার স্টার হতে পারবে।”

কথা প্রসঙ্গে রুহুল জানান, সাসেক্স ক্লাবে থাকার সময় মুস্তাফিজ খুব স্বচ্ছন্দেই ছিলেন। আর ক্লাবের কর্মকর্তা ও সব ক্রিকেটার তাকে খুব ভালোভাবেই স্বাগত জানায়। মুস্তাফিজকে এখানে পূর্ন স্বাধীনতা পান। আইপিএলের মতো মুস্তাফিজ নিজেই নিজের বোলিংয়ে ফিল্ডিং সাজিয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, ইউকের সভাপতি নঈমউদ্দিন রিয়াজের সাথে কথা বলেই মুস্তাফিজের হোস্ট সাব্বিরের সন্ধান পেয়েছিলাম। মুস্তাফিজের সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছে তার। তিনিও জানালেন মুস্তাফিজ ভালোভাবেই দিনগুলো কাটাচ্ছেন। আমিও উপদেষ্টা হিসেবে এই অ্যাসোসিয়েশনের সাথে জড়িত। -বিডি নিউজ

লেখক : আবু মুসা হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও সাংবাদিক






মন্তব্য চালু নেই