মেইন ম্যেনু

লবণের লাগাম টানতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আসন্ন ঈদকে সামনে দেশের বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত লবণের দাম। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে পরিশোধিত লবণের দাম বাড়ছে। ভালো মানের প্যাকেটজাত খাবার লবণের কেজি ৪২ টাকায় পৌঁছেছে। এ প্রবণতা থামাতে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও খুব সহসায় দাম কমানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে না।

কারণ লবণ আমদানী করে দেশের বাজারে ঈদের আগে ছাড়া সম্ভব হবে না বলে জানা গেছে। তবে কিভাবে লবণের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যায় তা ঠিক করতে বুধবার ব্যাবসায়ীদের ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন প্রতি কেজি লবণের দাম ২৫ থেকে ৩৮ টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

জানা গেছে, লবণের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে দেশে উৎপাদন ভালো না হওয়ায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত দুই মৌসুমে কক্সবাজারের চাষিরা চাহিদা অনুযায়ী লবণ উৎপাদন করতে পারেননি। দেশি চাষিদের সুরক্ষা দিতে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ করে রেখেছে সরকার। তবে ঘাটতি হলে মাঝেমধ্যে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে বড় মিল মালিকদের দাবি, লবণের মৌসুম শেষ হয়েছে মে মাসে। এরপর দ্রুত আমদানির অনুমোদন দিলে লবণের দাম এভাবে বাড়তো না। বিলম্ব হওয়ায় লবণ মজুতকারীরা লাভবান হয়েছে।

এ বিষয়ে লবণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও পূবালী সল্টের মালিক পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, লবণ আমদানিতে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে হলেও আমদানি উন্মুক্ত করা দরকার। অন্তত চার লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দাম কমবে।

তবে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন মনে করছেন, দেশের চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এত দিন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ মুহূর্তে দাম একটু বেশি। সেই জন্য বুধবার ব্যবসায়ীদের ডাকা হয়েছে। এসব বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে।

লবণের দামের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মাচেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মো. দেলুয়ার হোসেন বলেন, গত বছরের এ সময় চামড়া প্রক্রিয়ার জন্য যে লবণ কিনতাম তার প্রতি মণের দাম ছিলো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এবার ওই লবণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। সে কারণে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ কম দেবে। ফলে অনেক চামড়া নষ্ট হতে পারে।

এদিকে লবণের জোগান নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৪ আগস্ট ৭৫ হাজার ভোজ্য ও ৭৫ হাজার টন শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে ১২১টি মিলকে ৬২০ টন করে ভোজ্য লবণ এবং ১২০টি মিলকে ৬২৫ টন করে শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।






মন্তব্য চালু নেই