মেইন ম্যেনু

লাঠির ৩টি আঘাতের মূল্য ৫০০ টাকা!

ঘড়ির কাটায় সময় ঠিক ৭টা। রাজধানী ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ইস্টার্ন প্লাজার সামনের রাস্তা বন্ধ করে জড়ো হয়েছে মানুষ, চলছে কথা কাটাকাটি। গত রোববারের ঘটনা এটি।

ঠিক সেই সময়েই ওখান থেকে যাচ্ছিলেন এক প্রতিবেদক। সেখানে গিয়ে এই প্রতিবেদক জানতে পারলেন, রফিক নামের এক রিকশাচালককে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে এক প্রাইভেটকার চালক। এ কারণেই সেখানে মানুষ জড়ো হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে রিকশাচালক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘যানজটের কারণে রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। পেছনে একটি প্রাইভেটকার ছিল। ওই প্রাইভেটকারের চালক পেছন থেকে আমার রিকশাকে ধাক্কা দিচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় ওই চালক আমাকে লাঠি দিয়ে ৩/৪ টা বাড়ি (আঘাত) মারে। এরপর সবাই দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করছে।’

ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত হওয়া জনতা ঘটনার সাথে জড়িত ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৭১৫৬ নাম্বারের গাড়ির চালককে গাড়ি নিয়ে যেতে দিচ্ছিল না এবং রিকশাচালককে চিকিৎসা খরচ দেয়ার জন্য চাপ দেয় উপস্থিত জনতা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই প্রাইভেটকারের চালক গাড়ি থেকে নেমে একটা লাঠি দিয়ে রিকশা চালক রফিককে কয়েকটা আঘাত করে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ প্রাইভেটকারের চালক ও তার গাড়ি আটকিয়ে দেয়।

এরপর জনতা প্রাইভেটকারের চালককে বাধ্য করে চিকিৎসা খরচ দিতে। তখন রিকশা চালক রফিককে ৫০০টাকা চিকিৎসা খরচ দেয় প্রাইভেটকারের ওই চালক। এরপর রিকশাচালকের কাছে মাফও চায় ওই প্রাইভেটকার চালক।

চিকিৎসা খরচ এবং রিকশা চালকের কাছে মাফ চাওয়ার পর জনতা ওই প্রাইভেটকার চালককে গাড়িসহ ছেড়ে দেয় এবং এমন কাজ আর কখনও না করার জন্য বলেন।

প্রাইভেটকার চালকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে কোন কথা বলেন নি।

ঘটনা শেষে সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু-কিছু মানুষ আছে যারা রিকশা চালক, দিন মুজুরের গায়ে হাত তুলে। এটা কখনই ঠিক নয়। আর এ প্রাইভেটকার চালকও অন্যায় করেছে। তাই আমরা সবাই মিলে তাকে আটকিয়ে রিকশা চালকের কাছে মাফ চাইতে বাধ্য করেছি এবং রিকশা চালকের চিকিৎসার জন্য ৫০০টাকা আদায় করা হয়েছে।’ বিডি২৪লাইভ






মন্তব্য চালু নেই