মেইন ম্যেনু

লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান!

আল কায়দার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনের পাকিস্তানে আত্মগোপনের কথা জানতেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা । সাবেক পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী চৌধুরী আহমেদ মুখতারের সাম্প্রতিক এই মন্তব্য গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমে মুখতারের এই মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।

সম্প্রতি সিএনএন-আইবিএন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুখতার দাবি করেছেন, লাদেনের অ্যাবোটাবাদে বসবাসের খবরটি জানতেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, সেনাপ্রধান আসফাক পারভেজ কায়ানি এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ। যদিও লাদেনকে হত্যার পর থেকে পাকিস্তান বার বার বলে আসছিল, দেশটিতে জঙ্গি নেতার অবস্থান সম্পর্কে তারা কিছুই জানত না। ফলে সাবেক পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বিবৃতি নিয়ে জটিল হয়ে পড়েছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে মুখতারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পাক সরকার। মুখতারের কাছে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ। অবশ্য ওই বিবৃতি দেয়ার পর মুখতার ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী রেহমান মালিক দাবি করেছেন, মুখতার কখনও বিদেশমন্ত্রী ছিলেন না। তাঁর মতে, মুখতার প্রশ্নকর্তার ভাষা এবং প্রশ্ন না বুঝেই এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি আরো দাবি করেছেন, ওসামা যে পাকিস্তানে ছিল, কেউই সে কথা জানতেন না।

মুখতার মিথ্যে কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন পারভেজ মুশারফের ঘনিষ্ঠ রশিদ কুরেশিও। তিনি বলেছেন,‘আমি বিশ্বাস করি না মুখতার এ কথা বলেছেন। যদি তা সত্যিই হয়, তবে বুঝতে হবে মুখতারের কোথাও একটা গণ্ডগোল হয়েছে।’

ওসামা হত্যার সাড়ে চার বছর পর এই প্রথম পাকিস্তানের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন মন্তব্য করলেন। এমন একজন এটি করলেন যিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইউসুফ রাজা গিলানির মন্ত্রিসভায় মুখতার সেরা পাঁচের মধ্যেই ছিলেন। কাজেই তার এ মন্তব্যটাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছে না সে দেশের সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২ মে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নৌবাহিনীর এক অভিযানে নিহত হয়েছিলেন আল কায়দা নেতা লাদেন।






মন্তব্য চালু নেই