মেইন ম্যেনু

লালনের আখড়ায় সাধুর হাট

শুক্রবার পয়লা কার্তিক। বাউলসম্রাট লালন শাহের ১২৫তম তিরোধান দিবস। সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী স্মরণ উৎসব।

এ উপলক্ষ্যে আলোকসজ্জাসহ মাজার প্রাঙ্গণ সেজেছে বর্ণিল সাজে। মাজারের ভেতরে বসেছে বাউল-ফকিরদের আসর। কালিন্দীর পাড়ে বসেছে ৫ দিনের গ্রামীণ মেলা। বাউলদর্শনের ভাবজগতে প্রবেশ করতে মানুষের ভিড় বেড়েছে মাজারে। আগামীকাল শুক্রবার লালনমঞ্চে চলবে আলোচনাসহ গানের আসর।

লালন গবেষক ফকির হৃদয় শাহ বলেন, ‘পহেলা কার্তিক বৃষ্টিস্নাত দিনে বাউলসম্রাট লালন শাহ দেহত্যাগ করেছিলেন। সেদিন অসংখ্য ভক্ত, বাউল-ফকিররা সারারাত তার শবদেহ নিয়ে বসেছিলেন ভোরের অপেক্ষায়। সেই থেকে প্রতিবছর তিরোধান দিবসে সাধুরা আখড়াবাড়িতে আসা শুরু করেন কয়েকদিন আগে থেকেই। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।’

হৃদয় শাহ আরো বলেন, ‘লালনের গানের বাণীতে পাগল হয়েছেন অনেকেই। সাঁইজি যে গুরুবাদী ধর্মের কথা বলেছেন সেই কথা সত্য। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক পরিবারে যদি একজন করে মানুষ গুরু-আশ্রিত হন তাহলে আমরা রিপুর তাড়না থেকে মুক্তি পাব। রাগ, হিংসা, ঘৃণা দূর হবে আমাদের।’

লালন অনুসারী ফকির আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এই লালনধামে আসি খুশিতে। এখানে আসলে শান্তি পাই। এ কারণেই বারবার ছুটে আসা। কোরান-দলিল দেখে ফকির লালন যেটা বলেছিলেন, আমরা সেটা মেনেই জীবনযাপন করার চেষ্টা করি।’

কুমারখালী থেকে আসা শাহাদত ফকির বলেন, ‘আমি চল্লিশ বছর ধরে এই ধামে আসি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানে ছুটে আসব। লালন মানবতাবাদী। তিনি সর্বজাতের, সর্বমানুষের। ভেতরের ভেদ ভুলে গিয়ে তিনি সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। পৃথিবীজুড়ে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দেখে মন ভারাক্রান্ত হলে লালনের গানের বাণী মনে পড়ে।’

ঢাকা থেকে আসা বর্ষা বলেন, ‘লালনের বাণী আমার খুবই ভালো লাগে। তাই বারবার ছুটে আসি এখানে।’

পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও ছেঁউড়িয়া এখন সাধু-ভক্তদের আড্ডায় মুখরিত। শুক্রবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও লালন একাডেমির আয়োজনে রাতভর লালনমঞ্চে চলবে তার গান পরিবেশন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন গ্রামীণ মেলার বিভিন্ন স্টলে। শুক্রবার সকালে কালিন্দী নদীতে স্নান করে বাউল-ফকির-ভক্তরা বসবেন গুরুসাধনায়।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, ‘লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি। লালনের সব অনুষ্ঠানে বিদেশিরা আসেন। তাদের যেন নিরাপত্তার ঘাটতি না হয় সেজন্য আমরা তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবলয় সাজিয়েছি।’






মন্তব্য চালু নেই