মেইন ম্যেনু

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির

একে অপরের ধর্মের প্রতি যে সহনশীল মনোভাব থাকা দরকার তারই অনন্য উদাহরণ পাওয়া গেছে উত্তরের জেলা লালমনিরহাট পৌর শহরে। এতে একই আঙিনায় গড়ে ওঠা মসজিদ আর মন্দিরের আসেন মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মসজিদে যেমন প্রতিদিন ৫ বার আজান হয়, মুসল্লিরা তাদের নামাজ আদায় করেন। তেমনি রোজ সকালে আর সন্ধ্যায় ওই মসজিদের গা ঘেঁষে থাকা মন্দিরেও হয় উলু ধ্বনি। এতে কারও কোনোদিন বিন্দুমাত্র সমস্যা হয়নি। আর তাই যুগ যুগ ধরে এভাবেই এক আঙিনার দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের ধর্ম পালন করে আসছেন স্থানীয় মানুষজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকার ওই মন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর গা ঘেঁষে থাকা মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করে চলেছেন মুসল্লিরা। তবে নামাজ শেষে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে যথারীতি দুর্গা পূজা করে চলেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও।

এ বিষয়ে কথা হয় মন্দির কমিটির উপদেষ্টা শত বছর বয়সী রাধা গোবিন্দ বণিকের সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৬৫ সালের দিকে তিনি ওই মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তখন থেকে শুরু করে আজ অবধি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান তিনি। ওই মন্দিরের সভাপতি জীবন কুমার সাহা বলেন, ‘১৮৩৬ সালের দিকে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পুরান বাজার এলাকাটি অনেকের কাছে কালিবাড়ি নামে পরিচিত হয়ে উঠে।’ এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে ১৯০০ সালে একটি নামাজ ঘর নির্মিত হয়। এ নামাজ ঘরটিই পরে পুরাণ বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে কোনো বিবাদ ও ঝামেলা ছাড়াই সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষজন। তবে দুর্গা পূজার সময় ঢাক-ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিয়ে কোনো প্রকার সমস্যা হয় কিনা? জানতে চাইলে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা বসে ঠিক করে নেই কখন এবং কিভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হবে।’ নামাজের সময়গুলোতে সব ধরনের বাদ্য বাজনা বন্ধ রাখা হয় বলে জানান তিনি।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য ফজল মিয়া বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। সে দিক থেকে লালমনিরহাটকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছে এই মসজিদ ও মন্দির। তাই এই ধর্মীয় সম্প্রীতি অনন্তকাল পর্যন্ত অটুট রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

একই কথা বলেন, মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ আলম। তিনি বলেন, এখানে উভয় ধর্মের মানুষজন তাদের নিজেদের মত ধর্ম পালন করে যাচ্ছেন। এতে কখনও কোনোদিন সমস্যা হয়নি। এদিকে একই আঙ্গিনায় অবস্থিত ওই মসজিদ ও মন্দিরে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠান পালন হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। মসজিদ-মন্দির সংলগ্ন খোলা জায়গাটিতে পূজা উপলক্ষে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মেলা বসে, তেমনি মুসলমানদের ওয়াজ মাহফিল ও জানাজার নামাজও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে সেখানে। ফলে সম্প্রীতির এই স্থানটি দেখতে বিশেষ করে দুর্গা পূজার সময় অনেক দর্শণার্থীরা ছুটে আসেন বলে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই