মেইন ম্যেনু

লাল পোশাকে মুরসি

প্রথমবারের মতো আদালতে লাল পোশাকে হাজির করা হয়েছে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় থাকা কারাবন্দীদের ওই পোশাক পরানো হয়।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রবিবার কায়রোর একটি অপরাধ আদালতে কাতারের কাছে সরকারি তথ্য ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানীতে মুরসিকে হাজির করা হয়। এ সময় তার গায়ে লাল পোশাক ছিল।

এই প্রথম দেশটির কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টকে এ পোশাক পরানো হল। মিসরের ইতিহাসে মুরসিই প্রথম জনগণের রায়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

এ দিন মামলাটির শুনানী আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন বিচারক। ওই মামলায় মুরসিসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এটি মুরসির বিরুদ্ধে চলমান চতুর্থ মামলা।

একই আদালত গত মঙ্গলবার মুরসিসহ মোট ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১১ সালে ওয়াদি নতরন জেল ভেঙে পালানোর সময় ‘হত্যা’ ও ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে তাদের এ শাস্তি দেওয়া হয়।

অন্য দু’টি মামলার মধ্যে একটিতে মুরসিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হামাস, হিজবুল্লাহসহ বৈদেশিক শক্তির কাছে দেশের তথ্য পাচারের অভিযোগে অপর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে তার।

মিসরে ২০১১ সালে গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ২০১২ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্টের পদে বসেন মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ফ্রিডম এ্যান্ড জাস্টিস পার্টির নেতা মোহাম্মদ মুরসি (৬৩)।

২০১৩ সালের জুলাইয়ে মুরসি সরকারের পতন ঘটিয়ে মিসরের ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এরপর থেকেই মুরসি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকদের ওপর মৃত্যুদণ্ডসহ নানা ধরনের নিপীড়ন চালিয়ে আসছে সিসি সরকার।

সিসি দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মুরসি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে মিসরের আদালত। দেশটির ৮৬ বছরের পুরনো ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে বিভিন্ন মামলায় খালাস পেয়েছেন সাবেক সেনাশাসক মোবারক।






মন্তব্য চালু নেই