মেইন ম্যেনু

লাশ পরে, আগে ঠিক হোক ছিনতাই না দুর্ঘটনা!

মৃত অনন্ত বিশ্বাস হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছেন। তার স্ত্রী কাকলী বিশ্বাসের দাবি ছিনতাইকারীরা তার স্বামীকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেছে। কিন্তু কাকলীর কথায় আস্থা রাখতে পারছে না পুলিশ। ছিনতাইকারীর কি গরজ পড়েছে অন্যকে গাড়িচাপা দিয়ে মারার! অন্তত পুলিশের তেমনটাই ধারণা। তারা এটাকে স্রেফ সড়ক দুর্ঘটনা বলেই ভাবতে চাচ্ছেন। কিন্তু স্বামীহারা শোকবিধ্বস্ত কাকলী কোনোভাবেই বোঝাতে পারছেন না তার স্বামীকে ছিনতাইকারীরা ছিনতাই শেষে গাড়ি চাপা দিয়ে গেছে। আর তাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

কাকলীর অনঢ় অবস্থানের কারণে পুলিশ পড়ে গেছে বিপাকে। এবার তারা তাদের ধারণা থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন কৌশলের আশ্রয় নিলেন। সড়ক দুর্ঘটনা নাকি ছিনতাই সে প্রশ্ন এড়িয়ে নতুন প্রশ্ন হাজির করলো পুলিশ। ছিনতাই হোক বা সড়ক দুর্ঘটনাই হোক, ঘটনাটি ঠিক তাদের থানার অধীনে ঘটেনি। ছিনতাই বলে কথা! নিজেদের অধীনস্থ এলাকায় এরকম ছিনতাইয়ের রেকর্ড হাতে ধরে টেনে আনবেই বা কোন বোকার হদ্দ। অতঃপর, এ নিয়ে এখন ঠেলাঠেলি চলছে রাজধানীর খিলক্ষেত ও ভাটার থানার মধ্যে। এখন প্রশ্ন, কুড়িল বিশ্বরোডের ব্রিজের নিচের এলাকাটা কোন থানার অধীনে পড়েছে?

হ্যাঁ, ঘটনাটি ঘটেছে, আজ রোববার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ব্রিজের নিচে। অনন্ত বিশ্বাসের (২৮) স্ত্রী কাকলী জানিয়েছেন, তার স্বামী একজন রিক্সা চালক। গাইবান্ধার কলেজপাড়ায় তাদের বাড়ি। রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের শ্যাওড়াপাড়ায় তারা থাকেন। আজ ভোরে গ্রামের বাড়ি থেকে বাসে করে ঢাকায় ফেরেন তারা। বাসচালক তাদেরকে কুড়িল বিশ্বরোডের ব্রিজের নিচে নামিয়ে দিয়ে যায়। তারা নামতেই একটি প্রাইভেট কারযোগে ৩ জনের একটি ছিনতাইকারী দল তাদেরকে পথরোধ করে। এসময় অনন্ত বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা তার মাথায় সজোরে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এসময় স্ত্রী কাকলীও বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে গলায় থাকা একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত গাড়িতে চেপে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত স্বামীর মাথার উপর গাড়ির চাকা চালিয়ে দেয় তারা। এতে গুরুতর আহত হন অনন্ত। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় অনন্তকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন কাকলী। ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সংবাদ পেয়ে খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুর রহমান শহীদ ঢাকা মেডিকেলে আসেন। তিনি বলেন, ‘এটা ছিনতাই না সড়ক দুর্ঘটনা তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি। কারণ লাশের শরীরের আলামত দেখে মনে হচ্ছে এটা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। তা ছাড়া ঘটনাস্থল খিলক্ষেত না ভাটারা থানায় পড়েছে তা যাচাই করে দেখতে হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অনন্তের স্ত্রীকে নিয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। আর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যু পরবর্তী বিড়ম্বনা মাথায় নিয়ে মর্গে পড়ে আছেন অনন্ত।বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই