মেইন ম্যেনু

লিফলেট: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

গত ২৫ এপ্রিল খুন-গুম-ধর্ষণের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগরের একদল শিক্ষার্থী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শান্তিপূর্ন অবস্থান নিলে বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে পুলিশ। অভিযোগ ওঠে, শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার নেপথ্যে ছিলেন ক্যাম্পাসেরই প্রক্টর। এমন বিরল ও ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

৭ মে ক্যাম্পাসে আন্দোলনের স্বপক্ষে একটি সংহতি সমাবেশের আয়োজন করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য ও সাংস্কৃতিক জোট। ওই সমাবেশকে ঘিরেই তারা প্রকাশ করছে নিচের লেখা সংবলিত একটি লিফলেট-

‘আজ যখন আপনি এই লিফলেটটি পড়বেন বলে ভাবছেন কিংবা পড়ার দরকার নেই ভেবে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তখন আপনার ভাবনার তোয়াক্কা না করেই কারো গলা দিয়ে ছুটছে রক্তের ফিনকি, কেউ নিথর পড়ে আছে সম্ভ্রমহীন, কারো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা গতকাল সন্ধ্যা থেকে। খোদ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবাহিনী সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছে। অথচ স্বায়ত্তশাসিত বিদ্যাপীঠে এসব কিছুই আপনাকে স্পর্শ করছে না। আপনি নিশ্চিন্ত কারন জনগণের অর্থ ঢেলে আপনাকে রাখা হয়েছে যাবতীয় ভীতির ঊর্দ্ধে। আপনি জাতির বিবেক বলে নিরাপদ আবাসস্থলে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে আপনাকে। আপনি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, আপনি শিল্প-সংস্কৃতি-আইন-বানিজ্য সব বোঝেন। আপনার মাধ্যমেই নির্মিত হচ্ছে রাষ্ট্রের বোধ। তাই আপনার আওয়াজকে করা হয়েছে নির্ভীক ও বাধাহীন। এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি। আর এই প্রকৃতির জোরেই আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মানুষ সারাদেশে ধর্ম-আদর্শ-লিঙ্গ-প্রবৃত্তি নির্বিশেষে সবার উপর অব্যাহত খুন-গুম-ধর্ষণের প্রতিবাদে আহুত অর্ধদিবস হরতালে সমর্থন জানিয়ে গত ২৫শে এপ্রিল অবস্থান নেয় ঢাকা-আরিচা রাজপথে। তাদের অবস্থান ছিলো শান্তিপূর্ণ, সাধারণ মানুষের ছিলো স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। অথচ শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা(প্রান্তিক) গেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে।

এখনও কোন খুনী কিংবা ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করতে না পারলেও পুলিশ বিচারের দাবিতে রাজপথে নামা ১২জন শিক্ষার্থীকে ঠিকই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কর্মসূচী চলাকালে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থাকলেও, হামলার পূর্বমুহূর্তে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রক্টর। পুলিশী আক্রমণের শিকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার রুদ্ধ করে রাখায় তারা পুলিশের দ্বারা নির্যাতিত ও গ্রেপ্তার হন। “আমরা জাবি প্রশাসনের নির্দেশ পেয়েই ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করেছি। আবার প্রশাসনের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দিয়েছি।”- বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পরে পুলিশী হামলায় প্রক্টরের মদদ সুস্পষ্ট। নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক বন্ধ করে পুলিশী হামলার সুযোগ করে দিয়ে প্রক্টর তার দায়িত্বের সাথে শুধু প্রতারণাই করেননি উপরন্ত খুন-ধর্ষণ এবং ভয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির সরকার দলীয় চরিত্রের পক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

যদি আপনার সচেতন মন বিচারহীন খুন-ধর্ষণের সংস্কৃতি প্রত্যাখ্যান করে, যদি আপনার বোধ বিচার চাইতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশী হামলায় প্রক্টরের মদদে লজ্জিত হয়, তবে আসুন ভয়ের নীরবতা ভেঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই, একইসাথে আওয়াজ তুলি- শিক্ষার্থী-বিরোধী প্রক্টরের পদত্যাগ চাই।’






মন্তব্য চালু নেই