মেইন ম্যেনু

লিবিয়ায় নিহত হায়দার আলীর লাশ অবশেষে কালকিনিতে

অনেক স্বপ্ন নিয়ে ২বছর আগে মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার দক্ষিন কৃষ্ণনগর গ্রামের হায়দার আলী (৩৫) নামের এক যুবক পাড়ি দিয়ে ছিলেন লিবিয়ায়। অভাবের সংসারে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পুরন করতে রাতকে দিন করে অর্থ উপার্জন করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। অর্থ উপার্জন করে বাবা-মা ও স্ত্রী সন্তানদের সুখে রাখবে এ আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু হলনা তার সেই স্বপ্ন পুরন। সে গত ৮ জুন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে মর্মান্তিক ভাবে তার মৃত্যু হয়। তার অকাল মৃত্যুতে শোকে ভেঙ্গে পরে অসহায় পরিবারটি। অবশেষে ১৫ দিন পর লিবিয়া থেকে হায়দার আলীর লাশ গতকাল শুক্রবার দুপরে কালকিনির নিজ গ্রামে পৌছায়।

নিহতের পরিবার সুত্রে যানা গেছে, ২০১৩ সালে পৌর এলাকার দক্ষিন কৃষ্ণনগর গ্রামের মোঃ ওয়াজে আলী সরদারের ছেলে মোঃ হায়দার আলী লিবিয়া যায়। এ দুই বছর ভালই কেটে ছিল এই পরিবারের। হতদরিদ্র সংসারের দুঃখ ঘোচাতে দিনকে রাত করে সে কাজ করে যে অর্থ উর্পাজন করতো তা দিয়ে তার বাবা-মা ও স্ত্রী ভালোই চলতো তাদের দিনকাল। তিনিই ছিলেন তাদের বেচেঁ থাকার একমাত্র সম্বল। নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় সব স্বপ্ন হঠাৎ করে মুছে যায়। হায়দার আলী কাজ থেকে বাসার ফিরে গত ৪জুন বিকালে রান্না করতে গেলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে আহত অবস্থায় রুমের বন্ধুরা মিলে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর একটি হাসপালে ভর্তি করলে তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮জুন সন্ধায় মৃত্যু হয়। হায়দার আলীর সংসারে রয়েছে স্ত্রী মাফুজা বেগম ও মা সুরাতন বেগম। দুই শিশু পুত্র হাফিজুল ইসলাম –(২) এবং ৮ মাস বয়সের হোসাইন। তার এ মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের মাঝে চলছে আহাজারী ও শোকের মাতম। মা সুরাতন বেগম একমাত্র উর্পাজনকারী ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক অবস্থায় রয়েছেন। স্ত্রী মাফুজা বেগমের অঝোড় ধারার কান্না দেখে দুই অবুঝ শিশু সন্তান বুঝতে পারছেনা কি হয়েছে তাদের বাবার। এ দিকে নিহত হায়দার আলীকে একনজর দেখার জন্য তার পরিবার এখন পাগল প্রায়। অবশেষে ১৫ দিন পর পুত্রের লাশ বাড়িতে এলে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দুটি সন্তান বাবার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। আর ভাবছে কি হলো তার বাবার।

এ দিকে লাশ দেখে স্বজনদের কান্নার রোলে আকাশ-বাতাস ভাড়ি হয়ে ওঠে। নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী ও মা সুরাতন বেগম বলেন, আমাগো কোন আশা ছিলোনা যে হায়দারের মুখ আবার দেখতে পারবো। পেপার পত্রিকায় লেখার কারনে তাড়া-তাড়ি হায়দারের লাশটা দেখতে পেলাম। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।






মন্তব্য চালু নেই