মেইন ম্যেনু

লিভার ক্যানসার রুখতে জানুন বিস্তারিত

যেকোনো রোগই মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক। ছোট কারণ থেকে হতে পারে বড় দুর্ঘটনার সূত্রপাত। আর কারো শরীরে ক্যানসার ধরা পড়লে তার বিপদের শেষ থাকে না। কারণ চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি হলেও বেশির ভাগ ক্যানসার প্রতিরোধ এখনো সাধ্যের অতীত। লিভার ক্যানসারও তেমনই একটি নাম। পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ লিভার ক্যানসার। প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে মোট ক্যানসারের ৭.৫ ভাগ লিভার ক্যানসার, আর নারীদের বেলায় এ সংখ্যা ৩.২ ভাগ।

বিশ্বব্যাপি লিভার ক্যানসারের মূল কারণ হেপাটাইটিস বি, সি ভাইরাস আর অ্যালকোহল গ্রহণ। আমাদের দেশে অবশ্য হেপাটাইটিস-বি লিভার ক্যানসার হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে। এদেশে প্রায় ৮০ লক্ষ লোক এ ভাইরাসের বাহক। হেপাটাটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ লোকের জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেকোনো বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। নারীদের চেয়ে পুরুষের লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি ৪ থেকে ৬ গুণ বেশি। সাধারণত ক্যানসার হওয়ার আগে লিভারে সিরোসিস দেখা দেয়। তবে এেই লক্ষণের ব্যতিক্রম হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। লিভার ক্যানসারের রোগীরা প্রায়ই পেটের ডান পাশে উপরের দিকে অথবা বুকের ঠিক নীচে মাঝ বরাবর ব্যথা অনুভব করেন যার তীব্রতা রোগী ভেদে বিভিন্ন রকম হয়। সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, পেট ফাঁপা, ওজন কমে যাওয়া আর হালকা জ্বর জ্বর ভাব এ রোগের অন্যতম লক্ষণ। রোগীদের খাওয়ার অরুচি, অতিরিক্ত গ্যাস কিংবা কোষ্টকাঠিন্য থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে।

নিজেকে সুস্থ রাখতে হেপাটাইটিস-বি ও সি এর প্রতিষেধক টিকা নেয়া জরুরি। কারো জন্ডিস দেখা দিলে অভিজ্ঞ ডাক্তরের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়াও উল্লেখিত শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তার দেখাতে হবে।

লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ে সহজ উপায় একটি নির্ভরযোগ্য আল্ট্রাসনোগ্রাম। তবে কখনো কখনো সিটি-স্ক্যানেরও দরকার পড়ে। শুরুতে ধরা পড়লে লিভার ক্যানসার রোধ করা সম্ভব হয়। কখনো ওষুধে সুস্থতা আসতে পারে, কখনো অপারেশনের দরকার পড়ে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে ও লিভার ক্যানসার রুখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।






মন্তব্য চালু নেই