মেইন ম্যেনু

‘লেখালেখি এখন খুনের চেয়েও বড় অপরাধ’

লেখক-প্রকাশক হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে জনমনে ‘স্বস্তি’ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ৩৮ ব্যক্তি।

জঙ্গিদের অব্যাহত হুমকি এবং লেখক-ব্লগারদের খুনিরা ধরা না পড়ার মধ্যে সরকার প্রধান শেখ হাসিনার এক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার লেখক-অধ্যাপক-সংস্কৃতিকর্মী-সাংবাদিকদের এই যূথবদ্ধ বিবৃতি আসে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে খুনিদের আইনের আওতায় আনার বদলে লেখকদেরকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খুনিদের চেয়েও বেশি অপরাধ হচ্ছে লেখালেখি করা। আমরা এ অবস্থাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”

গত ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী কয়েক মাসে চারজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট খুন হওয়ার পর সম্প্রতি এক প্রকাশক খুন এবং আরেকজন হামলায় আহত হন।

এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখালেখির মাধ্যমে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এক যুগ আগে হামলার শিকার লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ যেমন জঙ্গিদের হুমকির মধ্যে ছিলেন, এই বছর খুন হওয়া অভিজিৎ রায়সহ অন্যরাও একই হুমকির সম্মুখীন ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমান সময়ে সংগঠিত প্রকাশক ও লেখকদের হত্যা দেশজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মুক্তবুদ্ধির জাগরণকে রুদ্ধ করতে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠী একের পর এক এ ধরনের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।”

গত এক বছরে একের পর লেখককে হত্যা করা হলেও এখনও একটির বিচার না হওয়ায় ‘খুনিরা উৎসাহিত হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন বিবৃতিদাতারা।

“যে সকল অপরাধীকে ধরা হয়েছে, তারাও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এরূপ উদাসীনতা মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হতাশ করেছে। সে সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জনমনে হতাশা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে।”

বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক-প্রগতিশীল ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার ‘চরম ব্যর্থতার’ পরিচয় দিচ্ছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ও তার গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার দায়ভার জনগণ মেনে নিতে পারে না।

বিবৃতিদাতারা ‘স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি’ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭-ধারা বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাষা সংগ্রামী ও লেখক আহমেদ রফিক, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক-সংস্কৃতি সংগঠক কামাল লোহানী, অধ্যাপক যতীন সরকার, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. শফিউদ্দিন আহমেদ, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, লায়লা হাসান, বেগম মুশতারী শফি, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, সাংবাদিক আবুল মোমেন, শিল্পী অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী, সাংবাদিক আবেদ খান, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজেয় শ্যাম, প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ শীশ ও মোনায়েম সরকার।






মন্তব্য চালু নেই