মেইন ম্যেনু

লোকাল বাসে রিমান্ডের আসামি!

বাংলাদেশ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা বিরল নয়। কিছু দিন আগেও ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে প্রিজনভ্যান থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা দেশ-বিদেশ তোলপাড় করেছিল। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনা ঘটে। এরপর আসামিদের নিয়ে যাতায়াতে পুলিশ কড়াকড়ি আরোপ করে।

কিন্তু সোমবার বিকেলে রাজধানীতে আদালত থেকে রিমান্ড মঞ্জুর করা চুরির ঘটনার ২ আসামিকে লোকাল বাসে থানায় নেয়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

শুধু তাই নয়, রিমান্ডের আসামিকে এভাবে গণপরিবহনে আদালত থেকে থানায় নিয়ে আসার বিষয়টি জানতো না সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও।

সোমবার নিম্ন আদালত থেকে দু’জন রিমান্ড প্রাপ্ত আসামিকে মোহাম্মাদপুরগামী তরঙ্গ নামের লোকাল বাসে করে মোহম্মদপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধরা পড়ে।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আসামি নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রিজনভ্যান ব্যবহারই নিয়ম। লোকাল বাসে আসামি নিয়ে যাতায়াতের নিয়ম নেই।

তেজগাঁও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছেন, ঘটনার সত্যতা মিললে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে ওই আসামিদের আনা নেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দাবি, রাস্তায় যানজট থাকায় আসামিদের তারা সিএনজি থেকে বাসে ওঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউটের সামনে যানজটে অপেক্ষমাণ একটি সিএজি থেকে নেমে এলেন তিন পুলিশ সদস্য। একজন এএসআই ও দুই কনস্টেবল। পেছনে সাদা পোশাকের দু’জন আসামিকে হ্যান্ডকাপ লাগানো অবস্থায় তারা তরঙ্গ বাসে উঠে পড়েন। এসময় ওই বাসে ১৫-২০ জন যাত্রীও বসা ছিলেন।

হাতে হ্যান্ডকাপ পড়ানো আসামিকে বাসে উঠানোর দৃশ্য যানজটে অপেক্ষমাণ বিভিন্ন বাস, রিকশা এবং পথচারীরা উৎসুক ও ভীতির চোখে তাকিয়ে দেখেন। হঠাৎ এক পথচারী চিৎকার করে বলেন, পালাও …পালাও…।

যে সিএনজি থেকে ওই আসামি দুজনকে নামানো হয়, সেই সিএনজির চালক জানান, নিম্ন আদালত চত্বর থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যাওয়ার জন্য তার সিএনজি ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে আসামিদের নামিয়ে বাসে উঠানো হয়।

এসময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তাছাড়া আসামিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন।

পরে মোহাম্মদপুর থানার টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করে আসামি আনা-নেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই তিন পুলিশ সদস্যের নাম জানা যায়। তারা হলেন, এএসআই মশিউর রহমান, কনস্টেবল মোতালেব ও আব্দুল লতিফ।

পরে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য এএসআই মশিউর রহমান বলেন, এভাবে বাসে আসামি নিয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মও নেই। তবে প্রিজনভ্যানের অভাব ও রাস্তায় যানজট পরিস্থিতির কারণে দ্রুত আসামিদের থানায় নিতেই বাসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, এখানে আমার কোনো দোষ ছিল না। অসৎ উদ্দেশ্যও ছিল না। শুধুমাত্র দ্রুত আসামিদের থানায় আসার তাগিদেই তাদের বাসে উঠিয়েছিলাম।

পরে অপর পুলিশ সদস্য আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়ম আছে কিনা জানি না, তবে মফস্বলে প্রায়ই এ ঘটনা ঘটে!

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদুপর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দীন মীর বলেন, আসামি সিএনজি ভাড়া করে নিয়ে আসার কথা বাসে নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বাসে আসামি নিয়ে যাতায়াতের কোনো নিয়ম নেই। বরং এমনটি করা ঝুঁকিপূর্ণও বটে। তবে অনেক সময় প্রিজনভ্যানের অভাব ও রাস্তার পরিস্থিতির কারণে অন্য পরিবহনে আসামি নিয়ে আসা-যাওয়া হয় খুবই কম। তবে এক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তার নিশ্চিত করেই করা হয়।

এ প্রতিবেদককে তিনি আরো জানান, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি আমি জেনেছি। ওই তিন পুলিশ সদস্যকে আমার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের অসৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকলে অবশ্যই আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ জাগো নিউজ






মন্তব্য চালু নেই