মেইন ম্যেনু

লো ব্লাড সুগারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনবেন যেভাবে

আশেপাশে সর্বক্ষণ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ দেখতে দেখতে এর ব্যাপারে আমাদের সবারই কমবেশি কিছু ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। এর মাঝে একটি ধারণা হলো ডায়াবেটিসের রোগীদের শরীরে রক্তের সুগার লেভেল সবসময় বেশি থাকে। আসলে কিন্তু তা নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগার লেভেল অনেক সময়ে বেশ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন ওই ব্যক্তি। চলুন জেনে নেই লো ব্লাড সুগার বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া কী, এবং কীভাবে এর প্রকোপ কমানো যেতে পারে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া কেন হয়?
কিছু কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধের প্রতিক্রিয়া, খাবার সময়মত না খাওয়া, যথেষ্ট খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম এসব কারণে লো ব্লাড সুগারের সমস্যা দেখা যেতে পারে। ইনসমনিয়া এবং অ্যালকোহল পানের কারণেও এটা দেখা যেতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ চলার মতো যথেষ্ট ব্লাড সুগার না থাকলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া অ্যাটাক দেখা দিতে পারে। যাদের প্রায়ই হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয় তাদের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ সুগার লেভেল লো হয়ে যেতে পারে। এটাকে হাইপোগ্লাইসেমিক আনঅ্যাওয়্যারনেস বলা হয়। অনেকদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগে থাকলে রোগী খেয়ালও করেন না যে তার ব্লাড সুগার কমে এসেছে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ
লো ব্লাড সুগারের কারণে প্রচন্ড ক্ষুধা, বমি বমি ভাব, অস্থিরতা, ত্বক ঘেমে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন তাদের বুকে ব্যথা হয় অথবা হৃৎপিণ্ড ছুটতে থাকে দ্রুত। ঘুমের মাঝেও এটা হতে পারে, ফলে ঘুমের মাঝেই ঘেমে ভিজে যান অনেকে এবং দুঃস্বপ্ন দেখেন। লো ব্লাড সুগারের ফলে আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেকে খিটখিটে অথবা বিভ্রান্ত হতে পারেন। দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে, কথাবার্তা হতে পারে জড়ানো, হাঁটতে গিয়ে এলোমেলো পা ফেলতে পারেন। অপ্রিচিত কেউ দেখলে মনে করতে পারেন রোগীটি মদ্যপ। কিন্তু এই সমস্যা খুব সচেতনতার সাথে সমাধান করা উচিৎ। নয়তো রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, খিঁচুনি হতে পারে, ব্রেন অথবা হার্ট ড্যামেজ হতে পারে, কোমা এমনকি মৃত্যুও হওয়া অসম্ভব নয়। দেখে নিন হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিলে কী করতে পারেন আপনি-

১) ১৫-১৫ নিয়ম মেনে চলুন
আপনার ব্লাড সুগার যদি কমে যায়, তাহলে ১৫ গ্রাম পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খান অথবা ৪ আউন্স জুস পান করুন। আপনি যদি দেখেন সুগার কমে গেছে অথচ শরীর খারাপ লাগছে না, তারপরেও খান, শরীর খারাপ লাগার জন্য বসে থাকবেন না। ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং ব্লাড সুগার চেক করুন। এখনও যদি লো থাকে তাহলে আবার ১৫ গ্রাম পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খান। যতক্ষণ না ব্লাড সুগার স্বাভাবিক হয় ততক্ষণ এই কাজ করতে থাকুন। সুগার লেভেল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত পেট ভরে লাঞ্চ বা ডিনার করবেন না। বরং হালকা স্ন্যাক্স খান।

২) উপকারী স্ন্যাক্স খান
স্ন্যাক্স হিসেবে গ্লুকোজে পরিপূর্ণ কোনো স্ন্যাক্স খাওাটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া চট করে ঠিক করে দিতে পারে। ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটের সমান (এক কার্বোহাইড্রেট চয়েস) মানের স্ন্যাক্স রাখুন নিজের সাথে। যেমন ৪-৫টা সল্টেড ক্র্যাকার, ৫-৬ টুকরো ক্যান্ডি, ২ চা চামচ কিসমিস, আধা কাপ কোমল পানীয় বা জুস, এক টেবিল চামচ মধু এগুলো খেতে পারেন হাইপোগ্লাইসেমিয়া কমাতে। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেয়ে ফেলবেন না যেন। সেটা আবার ব্লাড সুগার বেশি বাড়িয়ে অন্যরকম সমস্যা ডেকে আনবে।

৩) হাইপোগ্লাইসেমিয়া নিয়ে ড্রাইভ করবেন না
ঘুম পেলে যেরকম ড্রাইভ করাটা বিপজ্জনক, তেমনি ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য ক্ষুধার্ত অবস্থায় ড্রাইভ করাটাও বিপজ্জনক। গাড়িতে বসার আগেই নিজের ব্লাড সুগার চেক করে নিন। যদি সুগার লেভেল কম থাকে তাহলে তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ড্রাইভ করবেন না। যদি গাড়ি চালাতে চালাতে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দেয় তবে সাথে সাথে গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করে ফেলুন।

৪) সাথে রাখুন মেডিক্যাল আইডি এবং গ্লুকাগন কিট
গ্লুকাগন কিট হলো এমন একটা ইনজেকশন যা খুব বেশি খারাপ অবস্থায় কাজে লাগে। হাইপোগ্লাইসেমিয়া বেশি হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, তখন তিনি খাবেন কী করে? এমন অবস্থায় অন্য কেউ তাকে গ্লুকাগন ইনেজেকশন দিলে রক্তে সুগার লেভেল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর মেডিকেল আইডিও এ কারণে দরকার। আপনি একলা কোথাও গেছেন এবং সেখানে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। সাথে মেডিক্যাল আইডি থাকলে সহজেই আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারবে আপনি কেন অসুস্থ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। মনে রাখুন, আপনার আশেপাশে কেউ যদি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণে অজ্ঞান হয়ে যায়, তবে কোনো অবস্থাতেই তাকে ইনসুলিন দেওয়া যাবে না। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে কিছু খাওয়ানো, পান করানো বা মুখে হাত ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না, রোগীর গলা আটকে দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৫) ব্লাড সুগার পরিমাপ করতে শিখুন
এখন অনেক ছোট ছোট মেশিন পাওয়া যায় ব্লাড সুগার কম সময়ে পরিমাপের জন্য। এক ফোঁটা রক্ত দিয়ে ১০-৩০ সেকেন্ডের মাথায় রক্তের সুগার লেভেল নির্ণয় করে ফেলে এসব মেশিন। এগুলো একটা কিনে ফেলুন এবং নিজেই ব্যবহার করতে শিখুন, যাতে কারও সাহায্য ছাড়াই নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন।

অনেকদিন ধরে ডায়াবেটিস থাকলে এবং সবসময় সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি যদি বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়ার শিকার হন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন। তিনিই আপনার চিকিৎসা পদ্ধতিতে দরকারি পরিবর্তন আনবেন।






মন্তব্য চালু নেই