মেইন ম্যেনু

কমবে উৎপাদন খরচ, বাড়বে উৎপাদন

“শক্তিচালিত বীজ বপন যন্ত্রের ব্যবহার লাভবান করবে কৃষককে”

শক্তিচালিত বীজ বপন যন্ত্রের ব্যবহারে উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমান জমিতে কৃষকরা অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারেন বলে দাবী কৃষি বিশেষজ্ঞদের।

সোমবার বিকালে রাজবাড়ী জেলা সদরের রামকান্তপুরের কাজীবাধা মাঠে ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিমিট-বাংলাদেশ ও এসডিসি’র সহযোগিতায় ইরি’র ফিড দ্যা ফিউচার বাংলাদেশ রাইচ ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের ফরিদপুর হাবের আয়োজনে “বীজ বপন যন্ত্রের মাধ্যমে মটরশুঁটি বপন” শীর্ষক একটি মাঠ দিবসে বক্তারা এ দাবী করেন।

এসডিসি’র নির্বাহী পরিচলিক কাজী আশরাফুল হাসানের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ্রী নিবাস চন্দ্র দেব এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার সম্মানিত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রকিব উদ্দিন।

এসডিসির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান খনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ইরি ফরিদপুর হাবের কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সিমিট ফরিদপুর হাবের প্রকৌশলী, এসডিসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজবাড়ী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমন-বোরো ধান এর মাঝখানে মটরশুঁটির চাষ সর্ম্পকে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন রাইচ ভ্যালু চেইন প্রজেক্ট, ইরি ফরিদপুর হাবের ভারপ্রাপ্ত হাব ম্যানেজার দিল আফরোজ তিথি উল্লেখ করেন, যে জমিতে বছরে দুটি ধান চাষ হয় এবং মাঝখানে প্রায় দুই মাস জমি পতিত থাকে সেই ধরনের জমিকে দুই ফসলি থেকে তিন ফসলি জমিতে পরিণত করার জন্য আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ফিড দ্যা ফিউচার বাংলাদেশ রাইচ ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের আওতায় কৃষকের সাথে কাজ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের স্বল্পমেয়াদি জাত সমূহ যেমন- ব্রি ধান৫৬, ৫৭ এবং ৬২ চাষাবাদ করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত স্বল্পমেয়াদী জাত বারি মটরশুঁটি-৩ চাষ করে সঠিক সময়ে বোরো ধান উৎপাদন করতে কৃষকের কোন সমস্যা হবে না। ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করে কৃষক লাভবান হতে পারেন।

অনুষ্ঠানে সিমিট, ফরিদপুর হাবের মেশিনারী ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা প্রকৌশলী পার্থ বিশ্বাস শক্তিচালিত বীজ বপন যন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পিটিওএস মেশিন দ্বারা একই সাথে জমি চাষ, সারিতে বীজ বপন ও মই দেওয়া যায়। এই মেশিনের সাহায্যে গম, মসুর, পাট, তিল, মুগডাল, সরিষা, ভূট্টা ও মটরশুঁটি বীজ অতি সহজেই সারিতে বপন করা যায়।

তিনি জানান, একজন দক্ষ অপারেটর দৈনিক গড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশের বিঘায় ৫-৬ বিঘা জমি চাষ করতে পারে ফলে শ্রমিক, সময় ও অর্থ স্বাশ্রয় হয়। বর্তমানে মৌসুমের সময় শ্রমিক সংকট হওয়ার কারনে কৃষক সময়মত ফসল উৎপাদন করতে পারেনা। এ সমস্যা নিরুপনে মেশিন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ জন কৃষাণ-কৃষাণি স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহন করেন এবং মেশিনের মাধ্যমে মটরশুঁটি বপন করা পর্যবেক্ষন করেন। উপস্থিতরা নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে, মেশিন দিয়ে সহজেই ও অল্প সময়ে জমি চাষ, সারিতে বীজ বপন ও মই দেওয়া সম্ভব। মেশিনের সহজলভ্যতা ও স্বল্প সূদে কৃষি ঋনের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে মেশিন ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করার অভিমত ব্যক্ত করেন

অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মানিত প্রধান অতিথি ও সভাপতি কৃষকদেরকে আয় বৃদ্ধির জন্য শস্যের নিবিড়তা বাড়ানোর পাশাপাশি মেশিন ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।






মন্তব্য চালু নেই