মেইন ম্যেনু

জাজিরায় আ’লীগের দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের জের

শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট॥ গ্রাম ছাড়া পুরুষ মহিলা, এলাকায় আতংক

রাজিব হোসেন রাজন, শরীয়তপুর থেকে : একটি হত্যা মামলার কেন্দ্র করে জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চর ধুপুরিয়া বালিয়া কান্দি গ্রামে শতাধিক পরিবার প্রায় দেড় মাস যাবৎ গ্রাম ছাড়া।হত্যা মামলার বাদী পক্ষের লোকজন এসব পরিবারের প্রতিটি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর,লুটপাট করে ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, বিভিন্ন রবি শস্য, ধান, চাল, ঘরের দরজা জানালাসহ ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র দিবালোকে লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থদের। হত্যা মামলার ৪১ জন আসামি পুলিশের ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুবাদে প্রতিপক্ষের তান্ডবে মহিলা ও শিশুরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে কোমলমতি শিশু ও কিশোর-কিশোরিদের লেখাপড়ার বিঘ্ন ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১০ জুলাই মিলন তালুকদার, মামুন সাইপ ও সোহেল মাদবর মোটরসাইকেল যোগে কাজিরহাট হইতে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের সিরাজ মাদবরের বাড়ির সামনে ব্রিজের ওপর পৌছামাত্র পূর্ব হইতে ওৎ পেতে থাকা এসকান মাদবর, সিরাজ মাদবর তাহাদের দলবল নিয়ে উক্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে মিলন তালুকদারকে মোটরসাইকেল হইতে নামিয়ে মারপিট শুরু করে। সাথে থাকা দুই সঙ্গী মিলন তালুকদারকে রক্ষা করার জন্য আগাইয়া আসিলে তাহাদের ধাওয়া করিলে তাহারা প্রাণ ভয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালাইয়া প্রথমে তোতা তালুকদারের বাড়ি আশ্রয় নেয়। সেখানে তাহাদের আক্রমন করিলে তাহারা প্রাণ বাচানোর জন্য সেনেরচর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোসলেম মাদবরের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সিরাজ মাদবর, এসকান মাদবর তাহাদের দলবল নিয়ে উক্ত মোসলেম মাদবরের বাড়ি ঘেরাও করে ঘরের বেড়া পিটায় ও দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। তখন দু-পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে হারুন মাদবর(৩৫) নামের একজন গুলিবিদ্ধ হলে তাহাকে জাজিরা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হারুনকে মৃত ঘোষনা করে। এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম মাদবরসহ কয়েকজন আহত হয়। সিরাজ মাদবর বাদি হয়ে মোসলেম মাদবরসহ ৪১ জন কে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পক্ষান্তরে তোতা তালুকদার তাহার ছেলেকে মারপিট, বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের জন্য ৪৯ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

অন্যদিকে প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোসলেম মাদবরের স্ত্রী মোসাঃ আছিয়া বেগম বাদি হয়ে সিরাজ মাদবর সহ ৩২ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের একটি মামলা করে। হাসেম জমাদ্দার এর স্ত্রী মোসাঃ আয়জান বিবি জাজিরা থানায় মামলা করিতে না পারায় শরীয়েতপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এসকান মাদবর সহ ৫৯ জনকে আসামি করে ও মতিন জমাদ্দারের স্ত্রী মোসাঃ মরজিনা বেগম সিরাজ মাদবর সহ ৫৯ জনকে আসামি করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের জন্য ভিন্ন দুটি পিটিশন মামলা দায়ের করে। ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য জালাল জমাদ্দারের স্ত্রী শারমীন বেগম এসকান মাদবর সহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ সুপার শরীয়তপুরের বরাবর একটি দরখাস্ত করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ দরখাস্তকারিনির।

হত্যা মামলার আসামি না হয়েও জাজিরা বালিয়াকান্দি গ্রামের তারামিয়া জমাদ্দার, জালাল জমাদ্দার, সিকিম আলী জমাদ্দার, ফজল জমাদ্দার, মজিদ জমাদ্দার, মান্নান জমাদ্দার, মোতালেব জমাদ্দার, সোহরাব শেখ, সিরাজ সরদার, নুর মোহাম্মদ মোল্লা, সিদ্দিক সাইপ, নুর ইসলাম সরদারের বাড়িসহ অন্তত ৮০-৯০টি বাড়িতে সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার, রবি শস্য ও আসবাবপত্রসহ ঘরের যাবতীয় মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। কোন কোন ঘরের দরজা জানালা ও ঘরের বেড়া খুলে নিয়ে যায়। কোন কোন বাড়িতে খালি ঘর পড়ে আছে, কারো বাড়িতে দরজায় তালা মেরে বাড়ির সবাই অন্যত্র চলে গেছে। কিছু কিছু বাড়িতে বয়স্ক মহিলারা থাকলেও প্রতিপক্ষের লোকজনের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা বাড়িতে খুব ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গত ২৫ আগস্ট ভোর রাতে সন্ত্রাসীরা জামাল সরদারের দোতলা ঘরের একটি রুমের মধ্যে আগুন দিলে রুমে থাকা লেপ তোশক, কাথা-বালিশ পুড়ে ধোয়া ছড়িয়ে পরলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। রুমের খাটসহ সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জামাল সরদারের স্ত্রী রেণু বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান আমার দেবর বিয়ের জন্য বিদেশ হইতে আনা ১০/১২ ভড়ি স্বর্ণসহ আমাদের ঘরে থাকা সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার, টাকা পয়সা সহ ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল সিরাজ মাদবর ও এসকান মাদবরের নেতৃত্বে তাহার লোকজন লুট করে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের ঘরে বসবাস করার কোন ব্যবস্থা নাই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

জাজিরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. এনামুল হক বলেন, আসামী ছাড়া কিছু লোকজন চর ধুপুরিয়া বালিয়া কান্দি গ্রামে যে থাকতে পারছেনা বা লুট হচ্ছে এটা আমি জানি না। ব্যাপারটি দেখছি।






মন্তব্য চালু নেই