মেইন ম্যেনু

শনাক্ত হলেও গ্রেফতার হয়নি ঘরোয়ার মালিক

রাজধানীর মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেলের কর্মচারী রিয়াদ হোসেন খুনের ঘটনা তদন্তে ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোটেল মালিক সোহেলকে শনাক্ত করা হলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

পুলিশের দাবি, একাধিক টিম রাজধানীতে তার বাসাসহ বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশের পর তিনি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য দেশের বন্দরগুলোতে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর হোটেল ম্যানেজার শফিসহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ হওয়া ভিডিও ফুটেজটি পুলিশ আরো যাচাই-বাছাই করছে বলে জানিয়েছে।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন কুমার দে জানান, আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে চুরির অভিযোগে রিয়াদকে হাত-পা বেঁধে মারধর করার ঘটনাটি স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই রিপন বাদী হয়ে হোটেলের মালিক সোহেলকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অন্য আরো তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে ওয়ারী থানায় মামলা করেন। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া জসিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ঘটনার সময় জসিম স্বামীবাগের মেসে রিয়াদের হাত-পা বাঁধার সময় সোহেলকে সহযোগিতা করেছে। হোটেলের মালিক সোহেল একাই রিয়াদকে মারধর করে তার থুতনিতে গুলি করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

এদিকে জসিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম মোল্যা সাইফুল আলম সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলিম হোসেন শিকদার জানান, সোহেলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সন্দেহভাজন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘরোয়া হোটেলটিতে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ ওই ক্যামেরা থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সূত্রটি আরো জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ওই দিন রাত পৌনে ১টার দিকে স্বামীবাগ ৩৭ মিতালি স্কুলের নির্মাণাধীন বাসায় রিয়াদকে নিয়ে যান সোহেল। এ সময় তার সঙ্গে লাঠিহাতে আরো কয়েকজনকেও দেখা যায়।

তিনি জানান, রিয়াদসহ হোটেলে থাকা অন্যান্য কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে গত ২৭ অক্টোবর রিয়াদকে মারধর করে গুলি করে হত্যা করেন ঘরোয়া হোটেল মালিক সোহেল। এরপর নিহত রিয়াদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে হোটেলের অন্যান্য কর্মচারীর মাধ্যমে ঘটনাটি প্রচার হয়ে যায়। পরে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে হত্যার সঙ্গে জড়িত হোটেল মালিক সোহেলকে শনাক্ত করে। তবে এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী জোনের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, সোহেলকে গ্রেফতারের জন্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু সোহেলের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সোহেলের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই