মেইন ম্যেনু

শরতের কাশফুল শুধু দেখা ছাড়াও কী কী কাজে লাগে জেনে নিন!

চিক চিক করে বালি কোথা নাই কাদা একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।
কলকাতা শহরে আর কাশবন কোথায়? ছবি দেখেই আশ মেটাতে হয়। ইস্ কলকাতা শহরে যদি একটা কাশবন পাওয়া যেতে তবে তো সেটা সবথেকে জনপ্রিয় সেলফি জোন হয়ে উঠত।

ভাগ্যবান তাঁরা যাঁরা এই শরতের গোড়ায় কলকাতা থেকে একটু গাঁ-গঞ্জে যাওয়ার সুযোগ পান। ট্রেন থেকে দেখা কাশবনের মধ্য দিয়ে এই বুঝি ছুটে এলে সত্যজিতের অপু, দুর্গা।

রুপোলি দুর্গা না এলেও দেবী দুর্গা তো ছুটে আসেন কাশফুল দেখলেই। উমাও হয়তো কাশের দোলা দেখলেই বুঝতে পারেন বাংলায় শরৎ এসেছে। বিস্তীর্ণ নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের সমারোহই তো শরৎ প্রকৃতির রূপ।

দুর্গার বাহন সিংহের কেশরের মতোই সাদা কেশরের শুভ্রতা নিয়ে ফোটে কাশফুল। ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা মঞ্জরি দেখা যায় বাংলায়। কাশ আসলে ঘাস-জাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা সরু সোজা রেখার মতো। উচ্চতা অনেক সময়ে চার মিটার পর্যন্তও হয়।

নদীতীর, জলাভূমি, আবার কখনও উঁচু পতিত জমিতেও গোছায় গোছায় ভরে থাকে। কাশফুল-এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum আর উদ্ভিদবিজ্ঞানে এর গোত্র পরিচিতি Poaceae।

কাশফুল কেবল প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না। কাশ ঘাস শুকিয়ে গ্রামদেশে মাদুর, ঘরের বেড়া ও ঘরের চালার ছাউনি তৈরি হয়। এছাড়া কাশবন থেকে পাওয়া খড় ও ঝাটি পান-বরজের জন্যও ব্যবহার করা হয়। তবে সেটা পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ দেখা যায় না। বাংলাদেশে অনেক জায়গাতেই কাশ খড় দিয়ে পান-বরজের ছাউনি তৈরি হয়। এছাড়াও পান-লতাকে উপরে উঠতে কাশফুলের শলার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে বাংলার মাটিতে বা ভারতেই এই উদ্ভিদের দেখা পাওয়া যায়। এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও রয়েছে। কাশ থেকে কাগজের মণ্ড তৈরি হয়।

দিল্লির সোসাইটি অব পার্থেনিয়াম ম্যানেজমেন্ট-এর গবেষণা বলছে, নদী পাড়ের ভূমি ক্ষয় রোধে যেমন কাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক রয়েছে তেমনই এই ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষধি। কাশফুল গাছ থেকে কিডনি, অর্শ্ব, যৌন সমস্যা ইত্যাদির জন্য ওষুধও তৈরি হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্ত্রীরোগ নিরাময়েও কাশফুলের ব্যবহার রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই