মেইন ম্যেনু

শরীরের ৭ অংশে হাত দেয়ার আগে সাবধান!

শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনে হোক কিংবা অপ্রয়োজনে অনেকের হাত দেয়ার অভ্যেস রয়েছে। কেউ কথা বলতে গিয়ে মাথা চুলকায়, কেউ আবার অবচেতন মনে আঙ্গুল চিবায়, আবার অনেকেই কারণে অকারণে নাক খুটিয়ে থাকেন। তবে প্রশ্ন হলো শরীরের যেকোনও অংশে হাত দেয়া কি ঠিক?

এ নিয়ে গবেষকরা বলছেন, নিজের বলেই শরীরের সব জায়গায় হাত দেয়া ঠিক নয়। এর রুচিগত কারণ তো আছেই। এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই। তবে শরীরের সব জায়গায় হাত দিতে গবেষকেরা নিষেধ করছেন, তা কিন্তু নয়। তারা মাত্র ৭টি অংশে হাত দিতে নিষেধ করছেন।

তাহলে জেনে নিন শরীরের কোন ৭টি স্থানে একেবারেই হাত দেয়া ঠিক নয়?

মুখের ত্বক : মুখ ধোওয়া বা ত্বক চর্চার সময় মুখে হাত ছোঁওয়াতেই হবে। কিন্তু বাদবাকি অন্য সময়ে নিজের হাত দু’টিকে নিজের মুখ থেকে দূরেই রাখুন। কারণ সারা দিন কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের হাত ছোঁওয়াতেই হয়। সেই‌ সুবাদে হাতে লেগে যায় বিভিন্ন রকমের জীবাণু। তাছাড়া আমাদের আঙুলের ডগা থাকে তৈলাক্ত। মুখে হাত ছোঁওয়ালে সেই তেল মুখের ত্বকে লেগে যায়। এ জীবাণু এবং তৈলাক্ত উপাদান দু’টিই মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ি ইত্যাদির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কানের ছিদ্র : কানের ছিদ্রের ভিতরে কোনও কিছুই প্রবিষ্ট করানো কখনোই উচিত নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, কানের ছিদ্রের ভিতরে যে চামড়া থাকে তা অত্যন্ত পাতলা। কাজেই, আঙুল, পেন বা পেনসিল জাতীয় কোনও কিছুই কানে প্রবেশ করালে বিপদ ঘটতে পারে। তাহলে কান চুলকোলে কি করবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, মুখ বুজে ওই অস্বস্তিটুকু সহ্য করাই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

নিতম্ব : গোসলের সময়ে নিতম্ব স্পর্শ করতেই হয়। কিন্তু অন্য কারণে নিতম্বে, বিশেষত পায়ু্দ্বারে হাত না দেয়াই ভাল। চিকিৎসকরা বলছেন, মলদ্বারে কিছু জীবাণু তো থাকেই, সেই জীবাণুগুলি প্রায়শই ছড়িয়ে যায় নিতম্বের অন্যান্য অংশেও। কাজেই অপ্রয়োজনে নিতম্বে হাত দেয়ায় ওই সব জীবাণু শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যায়।

চোখ : কনট্যাক্ট লেন্স পরার সময়ে চোখে হাত লেগে যেতে পারে ঠিকই, কিন্তু চোখ চুলকানো বা চোখ পরিষ্কারের জন্য চোখে হাত দেয়া একেবারেই অনুচিত। কারণ এই উপায়ে হাতের জীবাণুগুলি চোখে সঞ্চারিত হওয়ার সুযোগ পায়।

ঠোঁট এবং মুখের ভিতরের অংশ : ডাক্তারি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মানব শরীরে যে সব জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয় তার ১/৩ অংশই হাত থেকে মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। তাই মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

নখের ভিতরের অংশ : নখ পরিষ্কার করার সময় নখের ভিতরের অংশ স্পর্শ করতে হয়। সেই সময় আঙুল ব্যবহার করার পরিবর্তে নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন। এতে নখের ভিতরের জিবানু এবং মৃত কোষগুলি থাকে তা শরীরের অন্য অংশে প্রবেশ করতে পারবে না।

নাকের ভিতরে : নাকে আঙুল দেয়াটা সামাজিকভাবে যেমন অশোভন তেমনই অস্বাস্থ্যকরও। সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্টাফাইলোকোকাস অরিয়াস নামের ব্যাক্টেরিয়ায় যারা আক্রান্ত হন তাদের ৫১ শতাংশেরই নাকের ভিতর আঙুল দেয়ার অভ্যাস রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই