মেইন ম্যেনু

শহীদদের ‘প্রকৃত সংখ্যা’ নিরুপণ করবে বিএনপি

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে উল্লেখ করে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে শহীদদের ‘প্রকৃত সংখ্যা’ নিরুপণের ইঙ্গিত দিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত শহীদদের সংখ্যা বের করার জন্য তৎকালীন আইজিপি আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু চুয়াত্তর সালে সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে আমরা কেন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবো? কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারবো না? বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে।’

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নজরুল ইসলাম। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য সমর্থন করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক ও মতবিরোধ রয়েছে, এটা তো মিথ্যা না। কারণ, দেশ স্বাধীনের কয়েকদিন পরেই মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান নির্দিষ্ট করেই বললেন, ত্রিশ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতার কয়েক দিনের মধ্যেই কে কখন হিসাব কিংবা অনুসন্ধান করেছেন যে, ত্রিশ লক্ষ লোক মারা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন- মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে।’ আমিও বলবো- বিতর্ক আছে, একশবার বিতর্ক আছে। তাই বলে শহীদদের ছোট ও অসম্মান করা করা হচ্ছে, এটা সঠিক নয়। বরং যারা আমাদের মাতৃভূমির জন্য রক্ত দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জীবন দিয়েছেন; তাদের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হোক।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছেন তাদেরকে ভাতা দেয়া হচ্ছে, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, ছেলে-মেয়েদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এতে আমরা খুশি। কিন্তু যারা শহীদ হয়েছেন তাদের কোনো প্রাপ্য নাই? এই দেশের জন্য তাদের কোনো অবদান নাই? কেন তাদের পরিবার-পরিজনেরা এই মর্যাদা পাবেন না, কেন তাদের নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে না?’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব ছিল এতোদিনের সরকারগুলো তা ঠিকভাবে পালন করেনি। এজন্য অভিযোগ তাদের সবার ওপরই পড়তে পারে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার জন্যই খালেদা জিয়া কথা বলেছেন। কিন্তু সরকার সে দায়িত্ব পালন না করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়েছে। বিএনপি আবার দায়িত্বে এলে নিশ্চয় এ অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে।’

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বক্তব্যে সরকারের ভীত কেঁপে গেছে এমন মন্তব্য করে নজরুল বলেন, ‘জনগণ যখন কোনো ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করে সরকার তখনই অন্য একটি ইস্যু সামনে নিয়ে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার নামে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা। আমরা এ ইস্যুতে আন্দোলন করবো। তবে মূল ইস্যু তথা নির্দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের দাবি থেকে আমরা সরে আসবো না।’

কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক এসকে সাদীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদীর হোসেন মো. জসীম প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই