মেইন ম্যেনু

শাটল ট্রেনে পাথর কেন?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হৃদয়ের সাথে মিশে যাওয়া রঙ্গীন শাটল মাঝে মাঝে বিস্মৃতি বা দুঃসংবাদ এর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ইদানিং নগর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে শাটল ট্রেনে হরহামেশাই ইট পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে,যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর ও আতঙ্কের কারণ।অনুসন্ধানে জানা যায়,ট্রেনে যারা পাথর ছুঁড়ে মারছে তারা কেউ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নয়,রেললাইনের আশেপাশের এলাকার স্থানীয় শিশু-কিশোর তথা সুবিধাবঞ্চিত বস্তির শিশু অথবা বখাটে তরুণরা।এমনকি চলন্ত ট্রেনের ছাদেও তাদের দৌড়ঝাপ করতে দেখা যায়।

আনিসুল হক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘প্রীতির জন্য ভালোবাসা’ কলামে যথার্থই বলেছেন,”ঈশপ বাচ্চাদের পুকুরে ঢিল মারা নিয়ে গল্প লিখেছিলেন,যেখানে খেলাচ্ছলে ব্যাঙকে পাথর ছুঁড়ে মারে অবোধ শিশুর দল,তিনি কি স্বপ্নেও ভাবতে পারতেন,বালকের দল পুকুরে ঢিল ছুড়ছে না; তারা ঢিল ছুড়ছে চলন্ত ট্রেনে, যার ভেতরে আছে মানুষ; টার্গেট এখানে ব্যাঙ নয়, মানুষ।” কথাগুলো কতটা কষ্টদায়ক, তা উপলব্ধি করা যায়। যেখানে একপক্ষের বিনোদন,অনপক্ষে ডেকে আনে প্রাণসংহার।

চলন্ত শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোন নতুন ঘটনা নয়।২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে আহত হন শোয়েব নামে এক শিক্ষার্থী । ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারী সাজ্জাদ নামের আইন বিভাগের অপর এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন,উল্লেখ্য তার চোখ থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়।দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে ২০১৩ সালে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী জেনী ও সাবরিনা মারাত্নক আহত হন।শাটল ট্রেনের ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্হাপনার বিষয়টিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কয়েক মাস আগে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়া পত্রিকা হকার শিশু রাইহানের মৃত্যু।সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর ডেমু ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় বেলাল নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।মোবাইল,মানিব্যাগ ছিনতাই এখন নিয়মিত ঘটনা।

শাটল ট্রেন

এসব দূর্ভোগ প্রতিকারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আজ পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো তেমন কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও দু একবার মানববন্ধন ছাড়া তেমন কোন প্রতিবাদ করা হয়নি।ফলে অনেকটা অজানাই থেকে যাচ্ছে শাটল ট্রেনে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবরগুলো।একজন ছাত্রলীগ কর্মী আক্ষেপে প্রকাশ করে বলেন,’ছাত্রলীগের নেতিবাচক কর্মকান্ডগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নজর এড়ায় না,কিন্তু হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভোগান্তি নিয়ে কেউ কাজ করেন না।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সুখ দুঃখের সাথী এই শাটলকে আতঙ্ক মনে করতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।যেকোন মূল্যে শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী বাড়ানোর দাবী সকলের, এ ব্যাপারে অতি শীঘ্রই পদক্ষেপ নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।






মন্তব্য চালু নেই