মেইন ম্যেনু

শাটল ট্রেনে শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ

সাফাত জামিল শুভ, চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হৃদয়ের সাথে মিশে যাওয়া রঙ্গীন শাটল মাঝে মাঝে বিস্মৃতি বা দুঃসংবাদ এর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বছরের পর বছর শিক্ষার্থী বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না শাটল ট্রেনের বগি। অসহ্য গরমের মধ্যে ভীড় ঠেলে নিয়মিত ক্লাসে আসতে হয় হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া কিছুদিন আগে সময়সূচী পরিবর্তন করায় আরো বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ইদানিং নগর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে শাটল ট্রেনে হরহামেশাই ইট পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে,যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর ও আতঙ্কের কারণ।অনুসন্ধানে জানা যায়,ট্রেনে যারা পাথর ছুঁড়ে মারছে তারা কেউ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নয়,রেললাইনের আশেপাশের এলাকার স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত বস্তির শিশু।এমনকি চলন্ত ট্রেনের ছাদেও তাদের দৌড়ঝাপ করতে দেখা যায়।যেখানে একপক্ষের বিনোদন,অন্যপক্ষে ডেকে আনে প্রাণসংহার।

12767445_979344575447052_1464381330_n

ট্রেনে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছাদে উঠতে হয় ছাত্রদের।অনিরাপদ এ ভ্রমনে প্রায় প্রতিদিনই আহত হন দু-একজন। ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে আহত হন শোয়েব নামে এক শিক্ষার্থী । ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারী সাজ্জাদ নামের আইন বিভাগের অপর এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন,উল্লেখ্য তার চোখ থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়।দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে ২০১৩ সালে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী জেনী ও সাবরিনা মারাত্নক আহত হন।শাটল ট্রেনের ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের অবহেলা ও অব্যবস্হাপনার বিষয়টিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় গত বছর ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়া পত্রিকা হকার শিশু রাইহানের মৃত্যু।সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর ডেমু ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় বেলাল নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

12788234_979351998779643_457818853_n

এসব দূর্ভোগ প্রতিকারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষক দু-একবার উদ্যোগ নিলেও বগি সংকটের কারনে দৃশ্যমান কোন প্রভাব পড়েনি।শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও দু একবার মানববন্ধন ছাড়া তেমন কোন প্রতিবাদ করা হয়নি।ফলে অনেকটা অজানাই থেকে যাচ্ছে শাটল ট্রেনে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবরগুলো।

হাজার হাজার মেধাবীর মাঝে “চলন্ত ক্যাম্পাস” খ্যাত এ শাটল কোন দু:সংবাদের কারণ হোক এটা চাননা কেউই। ছাত্র-ছাত্রীদের সুখ দুঃখের সাথী এই শাটলকে আতঙ্ক মনে করতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।যেকোন মূল্যে শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি ও পাথর নিক্ষেপ থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী বাড়ানোর দাবী সকলের, এ ব্যাপারে অতি শীঘ্রই পদক্ষেপ নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।






মন্তব্য চালু নেই