মেইন ম্যেনু

শার্লি এবদো হামলার পর ইহুদিদের ফ্রান্স ছাড়ার হিড়িক

দিনটির কথা স্পষ্ট মনে আছে ইয়োয়াভ কায়িফের। ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি, শুক্রবার। বিখ্যাত ফরাসি সাময়িকী শার্লি এবদোতে হামলার দু দিন পরের ঘটনা। ওইদিন প্যারিসের হাইপার চেকার কোসের সুপার মার্কেটে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল চার ইহুদিকে। নিহতদের একজন ছিলেন কায়িফের বন্ধু।

এ ঘটনার পরই ফ্রান্স ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় কায়িফ। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলে সে। সে তার মাকে বলেন,‘আমাদের অবশ্যই ইসরায়েল যেতে হবে।’ কায়িফ একজন ফরাসি ইহুদি এবং মাত্রই হাইস্কুল শেষ করেছে সে। শার্লি এবদো হামলার মাত্র ছয় মাস পর সপরিবারে ইসরায়েল চলে গেছে কায়িফ। আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো থেকে বহু ইহুদি সেখানে হিজরত করেছে। তবে শার্লি এবদোতে হামলার পর ইহুদিদের মধ্যে ইসরায়েলে আশ্রয় নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

ওই হামলার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ইহুদি ইসরায়েলে ঠাঁই নিয়েছে। একটি ইহুদি সংস্থার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন। ইহুদি অভিবাসীদের ওপর তথ্য সংগ্রহকারী ওই সংস্থাটি বলেছে, গত কয়েক মাসে ইউরোপ থেকে যেসব ইহুদি ইসরায়েলে ঠাঁই নিয়েছেন তাদের মধ্যে সিংহভাগই হচ্ছেন ফরাসি ইহুদি। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে দ্বিগুণ হচ্ছে ফরাসি ইহুদি। গত পাঁচ বছর ধরে যেসব ইহুদি ইসরায়েল ঠাঁই নিয়েছে এ সংখ্যা তাদের চাইতেই বেশি। ২০১৩ সালে ইসরায়েল আশ্রয় নিয়েছিল ৩ হাজার ৩শ জন ফরাসি ইহুদি। মাত্র দু বছর পর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯শ।

ফ্রান্সের পর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যদিও ফ্রান্সের তুলনায় সে সংখ্যা অতি নগণ্য। ২০১৫ সালে মাত্র ৭৭৪ জন ব্রিটিশ ইহুদি ইসরায়েল আশ্রয় নিয়েছে। ফরাসি ইহুদিদের সঙ্গে তুলনা করলে এ সংখ্যা দশ ভাগের এক ভাগ।






মন্তব্য চালু নেই