মেইন ম্যেনু

শাহবাগে লাঠিচার্জ-জলকামানে অর্ধশতাধিক নার্স আহত

শাহবাগে আন্দোলনকারী নার্সদের সরাতে পুলিশের জলকামান, গরমপানি নিক্ষেপ, পেপার স্প্রে, লাঠিচার্জ, টিয়ার সেল নিক্ষেপে অন্তত অর্ধশতাধিক নার্স আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নার্সদের সংগঠনের নেতারা।

আহতদের মধ্যে আবুল লতিফ হোসেন নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিনা আক্তার।

রিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু পুলিশ প্রথমে গরমপানি ছোড়ে। সাউন্ড গ্রেনেড মেরে আমাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। একইসঙ্গে তারা লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর তারা দুই দফায় পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করে।’

তিনি বলেন, পুলিশের লাঠিচার্জে, পেপার স্প্রে-তে‍ এবং সাউন্ড গ্রেনেডের ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।

ঢামেকের ইমারজেন্সি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, আহত একজন নার্সের গায়ে পানি ঢালা হচ্ছে। সবাই ব্যস্ত আহতদের নিয়ে। আহত কেউ কেউ যন্ত্রণায় জোরে জোরে চিৎকার করছে। আহত নার্সের কোনো কোনো সহকর্মী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাংলাদেশ বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিনা আক্তার। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমাদের সঙ্গে কি অমানবিক আচরণ করছে। আমার ভাইবোনেরা কীভাবে আহত হয়ে পড়ে আছে। চোখের সামনে সহর্মীদের যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখে তার চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম জানা যায়নি।

বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিজিএনএস) সভাপতি রাজীব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যালে ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যালের ইমারজেন্সিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো অন্তত ৩০জন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আহত আরো অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিজিএনএস) সাধারণ সম্পাদক নাহিদা আক্তার বলেন, ‘লাঠিচার্জে কারো হাত ভেঙ্গে গেছে, কারো পা। পেপার স্প্রে আর গরম পানি ছোড়ার কারণে অনেকে আহত হয়েছেন।’

তিনি জানান, পুড়ে যাওয়া একজনকে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারুখ হোসেন বলেন, এই প্রথম নার্সদের সঙ্গে পুলিশ এ রকম অমানবিক আচরণ করলো।

তবে পেপার স্প্রে ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন রমনা বিভাগে উপকমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়নি। নার্সদের হামলায় অনেক নারী পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।






মন্তব্য চালু নেই