মেইন ম্যেনু

শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন সেলিম ওসমান?

ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণ-পিটুনি ও কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। তাই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এমপি সেলিম ওসমান ফেঁসে যাচ্ছেন?

ঘটনাস্থলে ওই সময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে দাবি তদন্ত কমিটির। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করে কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে জেলার শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার জরুরি সভা আহ্বান করেছেন জেলা শিক্ষক সমিতির নেতারা।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণধোলাই এবং পরে এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে কান ধরে উঠবসের তিনদিন পর বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকম নুরুল আমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা। তারা ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

সোমবার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে প্রধান শিক্ষককে অপদস্ত করার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো: মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে উসকে দেয়া। কারণ ঘটনাস্থলে যাওয়া বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিবও জানিয়েছেন, আহত স্কুল ছাত্রের অভিযোগে ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির বিরোধের বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন। এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করবেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকম নুরুল আমিন জানান, তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন সেহেতু এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্তকালে তারা যেসব বিষয় পেয়েছে তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করবেন।

অন্যদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার।

তিনি বলেন, বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। মঙ্গলবার পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে তারা বৈঠক করবেন।

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত এখন নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে ভর্তি চিকিৎসাধীন। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালে কারো সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতেও রাজি হচ্ছেন না।






মন্তব্য চালু নেই