মেইন ম্যেনু

শিবিরের রেটিনায় কোচিং করতে গিয়ে ‘জঙ্গি’ হন আ.লীগ নেতার ছেলে সাব্বির

রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত নয় জনের একজন চট্টগ্রামের সাব্বিরুল হক কণিক। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান সাব্বির শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টার রেটিনায় ভর্তি হয়ে বিপথে যায় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এক পর্যায়ে উধাও হয়ে যায় সাব্বির।

কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহতদের ছবি প্রকাশের পর সাব্বিরকে শনাক্ত করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা পুলিশ। অভিযানের পর ধরা পড়া হাসান যে আট জনের নাম জানিয়েছিলেন তাতেও সাব্বিরের কথা আছে।

সাব্বিরের বাবা আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরীও তার ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১২ সালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর শিবির নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টার রেটিনায় কোচিং করার পরই সাব্বিরের মন মানসিকতায় বিরাট পরিবর্তন আসে। হঠাৎ করে তার কথাবার্তা, চালচলনে পরিবর্তন দেখা দেয়। এরপর চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাহাত্তার পুলে মাইকবিহীন মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করেন সাব্বির। বলতে থাকেন, তিনি ছাড়া স্বজন-শুভার্থী কারো ধর্মকর্ম শুদ্ধ নয়। অনৈতিক, অনৈসলামিক বলেও কাছেরজনদের গালমন্দ করতেন থাকেন।

আজিজুল হক জানান, রোটিনায় কোচিং শেষে তার ছেলে চট্টগ্রামের জামায়াতপন্থি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনার ইসলামি ইউনির্ভার্সিটি অব চিটাগাংয়ে ইকনোমিক অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তবলিগের কথা বলে মাঝে মাঝে সপ্তাহ-দশ দিনের জন্য উধাও হয়ে যেতেন সাব্বির। বছর খানেক আগে একবার তিনমাসের জন্য নিরুদ্দেশ থাকার পর বাসায় ফিরে আসেন। সর্বশেষ গত চার মাস আগে রাউজানে এক বিয়েতে যাবার কথা বলে বাবার কাছ থেকে পাঁচশ টাকা নিয়ে বের হন। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন সাব্বির।

সাব্বিরের চাচাত ভাই ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বাপ্পা জানান, সাব্বির ২০০৮ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘আমগো সাব্বির দা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি খোলে ব্যবহার শুরু করে। গত দুইবছর ধরে সে সেটি ইনেকটিভ করে রাখে। সম্প্রতি আইডি নাম্বার দুই নামের একটি আইডি থেকে ভাইবোনদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি।

এই আইডি নাম্বার দুই এ কোরআন-হাদিছের আলোকে নানা স্ট্যাটাসে ভর্তি। সবশেষ এটির ব্যবহার হয়েছিল ২০১৪ সালে। এই আইডিতে অস্ত্র তাক করা এক জঙ্গির ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে। আছে পোশাকধারী কিছু মানুষের মরদেহ বহন করা এবং উট দৌড়ের ছবি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে আইডি নাম্বার দুই এর পাশে ব্র্যাকেটে আস-সাব্বিরুল হক লেখা আছে উর্দুতে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ জানান, কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গিদের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর খবর পেয়ে তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টয়ি বরুমচড়ায় সাব্বিরদের বাড়িতে যান। তবে সাব্বিরের পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরে থাকায় তেমন কিছুই জানা যায়নি।

আবদুল লতিফ বলেন, সাব্বির চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। সন্তান বিপথগামী হয়েছে- এটা বুঝতে পেরেছিলেন তার বাবা আজিজুল হকও। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন।

আজিজুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। এমন পরিবারের সন্তান হয়ে কণিকের বিপথগামী হওয়া বড়ই কষ্টের। ভয়, শঙ্কা আর লজ্জায় এ ব্যাপারে এতদিন জিডি করিনি’।

কল্যাণপুরে নিহত নয় জনের ছবি প্রকাশ করার পর এখন পর্যন্ত দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাব্বির ছাড়া অপরজন হলেন নোয়াখালীর শিবির কর্মী যোবায়ের হোসেন। পুলিশের ওই অভিযানে আটক একমাত্র জীবিত ধরা পড়া বগুড়ার হাসানও শিবির নিয়ন্ত্রিত রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তির পর নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছেন তার মা।






মন্তব্য চালু নেই