মেইন ম্যেনু

শিল্পপতির আলমারিতে ক্ষতবিক্ষত কিশোরী

সারা গায়ে লাঠির আঘাতের চিহ্ন, পিঠে ব্লেড দিয়ে চিড়ে দেয়ার দাগ, ভীত সন্ত্রস্ত মুখ, খেতে না পেয়ে ক্ষীণ দুর্বল শরীর, কথা বলার ক্ষমতাটুকুও নেই- ঠিক এমন অবস্থায় এক কিশোরীকে পাওয়া গেছে এক শিল্পপতির আলমারিতে। মারধর করে আলমারিতে ঢুকিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তাকে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪ বছরের ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের গুরগাঁয়ের কৃষ্ণনগর কলোনির ঘটনা এটি।

গুরগাঁওয়ের শিল্পপতি সাগর জৈনের বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়েছে ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার এক আদিবাসী কিশোরী- এমন অভিযোগ আসছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। পুলিশ একবার উদ্ধার করতে গিয়েছিলও। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে সামলে নেন সাগর জৈন। অবশেষে বৃহস্পতিবার এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির জেনারেল সেক্রেটারি ঋষি কান্ত জানান, মাস ছয়েক আগে ঝাড়খণ্ডের রতন টোলি গ্রাম থেকে কাজের খোঁজে গুরগাঁওয়ের কৃষ্ণানগর কলোনিতে আসে ওই কিশোরী। শিল্পপতি সাগর জৈনের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ পায়। এরপর থেকেই তার বাইরে বেরুনো বন্ধ। ওই বাড়িরই এক কর্মী গোপনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটিকে এ কথা জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনের পর নির্মম অত্যাচার চলেছে কিশোরীর ওপর। সর্বশেষ তাকে আলমারিতে বন্ধ করে রেখে দিয়েছিল। খেতেও দেয়া হয়নি বেশ কয়েক দিন। ঋষি কান্তের বলেন, ‘আমরা যখনই জানতে পারি বিষয়টা, পুলিশকে জানাই। বুধবার বিকেল ৪টা নাগাদ পুলিশ সাগর জৈনের বাড়িতে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য যায়। কিন্তু সাগর জৈনের পরিবার পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। এরপর আজ সকালে পুলিশের সঙ্গেও আমরাও যৌথ অভিযানে যাই। দেখি আলমারির মধ্যে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় বন্দি মেয়েটি।’

পুলিশ এখন ওই কিশোরীরর জবানবন্দি নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখনো তার ভয় কাটেনি। সাগর জৈন ও তার পরিবারের সবাইকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাচারের উদ্দেশ্যেই কিশোরীকে আটকে রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই