মেইন ম্যেনু

শিশুর কান্নায় ‘ধরা’ পড়ল নকল মা !

লোকাল ট্রেনে কোলের অবুঝ শিশুটি একনাগাড়ে কেঁদে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বিকার ‘মা’। সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে দৃশ্যটি কেমন সন্দেহজনক লেগেছিল কয়েকজন শিক্ষিকা ও ছাত্রীর। ‘মা’-কে প্রশ্ন করা হলেও তিনি তেমন সাড়া দেননি। এতে সন্দেহ বাড়ে আরও।

চলন্ত ট্রেনেই শুরু হয়েছিল ‘জেরা’। একসময় সেই প্রশ্নের মুখেই ভেঙে পড়েছিলেন ‘মা’। স্বীকার করেন, ওই শিশুকন্যা তার নয়। এক দম্পতি তাকে স্বেচ্ছায় মানুষ করতে দিয়েছেন।

ট্রেন থেকেই ফোন করে ওই শিক্ষিকারা ব্যাপারটা জানান রানাঘাট জিআরপিকে। খবর যায় শান্তিপুর আরপিএফের কাছে। সকাল ১০টা নাগাদ ট্রেনটি শান্তিপুর স্টেশনে ঢুকতেই আরপিএফের জওয়ানেরা শিশুটিকে উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। আটক করা হয় হাওড়ার উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইল গ্রামের বাসিন্দা পল্লবী সর্দার নামে ওই মহিলাকে।

ভারতের এক দৈনিক জানিয়েছে, ওই মহিলার দুই ছেলে। কোনো মেয়ে নেই। তাই প্রতিবেশি স্বপ্না মণ্ডল সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে তার হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই শিশুকে নিয়ে তিনি বাপের বাড়ি, বীরনগরে যাচ্ছিলেন।

পল্লবীর কাছ থেকে আরপিএফ শিশুটির মায়ের ফোন নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ দিন সন্ধ্যায় ওই শিশুটির মা স্বপ্না মণ্ডল শান্তিপুরে এসে জিআরপি-র সঙ্গে দেখা করেন। স্বপ্না বলেন, ‘আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই রাজমিস্ত্রির জোগালে। অভাবের সংসারে এই সন্তান আমরা চাইনি। সেই কারণেই মেয়েকে পল্লবীর হাতে তুলে দিয়েছিলাম।’

জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতি রিনা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শিশুটিকে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। গোটা বিষয়টা ভাল করে খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তবে এ ভাবে নিজের সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেয়া যায় না।’






মন্তব্য চালু নেই