মেইন ম্যেনু

শীতে দরকারি ৫ ভিটামিন

ঋতু বদলের পালায় শীত এখন আমাদের ঘরের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। রাতের হিমশীতল বাতাস ও কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের উপস্থিতি। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় আমাদের ত্বকের বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই এই সময়ে ত্বকের জন্য দরকার একটু বেশি যত্ন, একটু বেশি পরিচর্যা। শীতে ত্বক ঠিক রাখার জন্য দরকারি কিছু ভিটামিনের গুণাগুণ উল্লেখ করা হলো।

ভিটামিন-সি: শীতের কারণে ঠাণ্ডা, কাশি, জ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়ে। ভিটামিন-সি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ত্বকের কোলাজেন বাড়ায় এবং ত্বকের আভা বৃদ্ধি করে।

ওজন ব্যবস্থাপনা ও ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা: আম্রপলি পাতিল বলেন, তীব্র শীতের কারণে শরীরের খাদ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত লৌহ গ্রহণ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভিটামিন-সি শরীরের অতিরিক্ত লৌহ শোষণ করে। তাছাড়া, রক্তে লৌহের পরিমাণ ভারসাম্য করে ভিটামিন-সি।

উৎস: কমলা, বাতাবি লেবু, লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি আছে। তাছাড়া, বাজারে এখন ভিটামিন-সি ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

ভিটামিন-ডি: সারা বছরই আমাদের ভিটামিন-ডি দরকার হয়। শুষ্ক আবহাওয়া ও কম তাপমাত্রায় ভিটামিন-ডি বেশি দরকার।

অর্থোপেডিক সার্জন ডা: নিরাজ গান্ধী বলেন, শীতের সময় অল্পসময়ের জন্য হলেও সূর্যের আলোতে থাকা উচিত। শীতের সময় হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। এ সময় অনেকেই হাড়ের জোড়ায় ব্যথা ভোগ করেন। ভিটামিন-ডি এসব সমস্যা সমাধানে ভাল কাজ করে।

ডা: পাতিল আরও বলেন, ৭০ বছরের নীচে যাদের বয়স তাদের কমপক্ষে ৬০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট সূর্যের আলো গ্রহণ করা উচিত। প্রতিদিন সকালে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সূর্যের আলো শরীরে লাগানো উচিত।

উৎস: সূর্যের আলো ভিটামিন-ডি এর সবচেয়ে বড় উৎস। আপনি যদি প্রাকৃতিক এই উৎস কাজে লাগাতে না পারেন তাহলে বাজারে ভিতামিন-ডি সমৃদ্ধ দুধ এবং সিরিয়াল পাওয়া যায়।

ভিটামিন-ই: এই ভিটামিনের ময়েশ্চারিং উপাদান আমাদের ত্বক গঠনে ভূমিকা রাখে।

উৎস: মাছ, মাংস, শাকসবজি ইত্যাদিতে ভিটাইমিন-ই পাওয়া যায়। বাদাম এবং তেঁতুলে প্রচুর ভিটামিন-ই আছে।

ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স: শীতাকালীন সময়ে ভিটামিন বি১ থেকে বি১২ পর্যন্ত শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

এ সম্পর্কে ডা: পাতিল বলেন, ভিটামিন বি৬ এর পাইরিডক্সিন উপাদান ত্বক কোমল রাখতে সাহায্য করে। ঠোঁট ও মুখের কোণার ফাঁটল রোধ করে রিভোফ্ল্যাভিন। থায়ামিন ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে। ভিটামিন-এ, ডি, ই চর্বি-দ্রবণীয় আর ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স পানি-দ্রবণীয়।

উৎস: ডিম, শাকসবজি, মাছ ও মুরগির কলিজায় ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স পাওয়া যায়।

ওমেগা-৩: যদিও এটি ভিটামিন নয়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে কোলোস্ট্রেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

অর্থোপেডিক সার্জন ডা: জগদীশ সেন বলেন, হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা ও বাতের সমস্যা কমাতে ওমেগা-৩ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া, শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সঠিক রাখতে ভিটামিন-ডি সহায়তা করে।

উৎস: তিসির বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ভাল উৎস। তাছাড়া, বাদামি আখরোট, স্যামন মাছ, টুনা মাছ এবং ম্যাকরল মাছে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।






মন্তব্য চালু নেই