মেইন ম্যেনু

শুধু পুরুষ নয়, মহিলাদের জন্যেও ব্যবহৃত হয় কন্ডোম

কন্ডোম শুধুমাত্র পুরুষের প্রয়োজন হয় তা কিন্তু নয়, একটি বিশেষ ক্ষেত্রে মহিলাদেরও প্রয়োজন হয় এই বস্তুটির এবং সেটি অবশ্যই চিকিৎসাবিজ্ঞান স্বীকৃত।

কন্ডোমের ব্যবহার যে শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেকথা ভাবলে ভুল হবে। যৌন মিলন ছাড়া আরও বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে কন্ডোমের এবং তার মধ্যে একটি হল ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসোনোগ্রাফি। এই বিশেষ মেডিক্যাল টেস্টে মহিলাদের জন্যই ব্যবহৃত হয় কন্ডোম। এই পরীক্ষাটি মূলত করা হয় গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে। এছাড়া ইউটেরাসে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেও এই টেস্ট করা যেতে পারে। অন্যদিকে, মিসক্যারেজ বা অ্যাবরশনের পরে ইউটেরাসে কোনও রেসিডিউ রয়ে গিয়েছে কি না বা সেখানে কোনও র‌্যাপচার হয়েছে কি না, তা দেখতেও টিভিএস আলট্রাসোনোগ্রাফির সাহায্য নেওয়া হয়।

সাধারণ আলট্রাসোনোগ্রাফি পরীক্ষায় ট্রান্সডিউসার প্রোব ত্বকের উপরে বুলিয়ে শরীরের ভিতরের অংশের শব্দতরঙ্গ সেন্স করা হয়। এই প্রোবের মাথায় লাগানো হয় এক বিশেষ কনডাক্টিভ জেল। সোনোগ্রাফি মেশিনের মাধ্যমে সেন্স করা শব্দতরঙ্গ থেকেই তৈরি হয় আলট্রাসাউন্ড ইমেজ। কিন্তু এই পদ্ধতিতে ইউটেরাসের অভ্যন্তরের ছবি সব সময় স্পষ্ট নাও হতে পারে। তাই গর্ভবতী মহিলার ইউটেরাসের ভিতরের ছবি আরও ভাল করে দেখতে পাওয়ার জন্য ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড বা ‘টিভিএস’ ইউএসজি করা হয়।

এই ধরনের ইউএসজিতে প্রোবটি শরীরের উপরে নয়, ইনসার্ট করা হয় যোনির ভিতরে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত। এই প্রোব করার সময় সেই ট্রান্সডিউসার প্রোব স্টিকের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় একটি কন্ডোম যাতে যোনিতে কোনও রকম ইনফেকশন না হয়। প্রোব স্টিকের মাথায় কন্ডোম পরিয়ে, তার উপরে দেওয়া হয় কনডাক্টিভ জেল। আর পরীক্ষা হয়ে গেলে কন্ডোমটি ফেলে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক রোগীর জন্য নতুন কন্ডোম দিতে হয়। এই পরীক্ষাটির কথা অনেকেই জানেন না কারণ সব চিকিৎসকেরাই যে কোনও প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রেই এই মেডিক্যাল টেস্টটি প্রেসক্রাইব করেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ আলট্রাসাউন্ডের উপরেই ভরসা করা হয়।

কিন্তু একেবারে প্রাথমিক স্টেজে অর্থাৎ ৪-৫ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার ছবি ভালভাবে দেখতে এই টেস্টটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সাধারণ আলট্রাসাউন্ড করলে সব সময় ঠিকমতো ধরা পড়ে না গেসটেশনাল স্যাকের ছবি। তাছাড়া এক্টোপিক প্রেগনেন্সি রয়েছে কি না অর্থাৎ ইউটেরাসের বদলে ফ্যালোপিয়ান টিউবে গর্ভধারণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেও এই টেস্টের সাহায্য নেওয়া হয়। এর বাইরে ইনফার্টিলিটি বা প্রজননক্ষমতাহীনতার কারণ নির্ধারণ করতেও এই পরীক্ষাটি করা হয়ে থাকে।






মন্তব্য চালু নেই