মেইন ম্যেনু

শুরু হলো বাঙালির শোকের মাস আগস্ট

‘দিকে দিকে পাপমুক্তির আনন্দে/মানুষ বেরিয়ে পড়বে/রাজপথ লিখবে আবার/অভিশাপ মুক্তির কলঙ্ক মোচনের ইতিহাস।’ (খুনিদের প্রতি ঘৃণা- রবীন্দ্র গোপ)। জাতির জনক হত্যার সেই পাপমুক্তি ঘটলেও খুনিদের প্রতি বাঙালি জাতি ও বিশ্বমানবতা ধিক্কার জানাবে কালের পর কাল। যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন ঘৃণার নহরও বয়ে চলবে নিরবধি।

শুরু হলো শোকের মাস আগস্ট। আজ থেকে আগস্ট মাসজুড়ে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

১৯৭৫ সালের এই মাসের ১৫ তারিখে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন স্বাধীনতার স্থপতি, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ রহমান।

বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ বছর পর জাতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। দায়মুক্ত হয়েছে বাঙালি। তবে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত ৬ খুনি এখনো বিদেশে পালিয়ে আছে। ফলে এখনো পুরোপুরি দায়মুক্তি ঘটেনি।

আগস্ট মাসের শুরুতেই রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতীর জনকের প্রতিকৃতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শুরু হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেলজয়ী পশ্চিম জার্মানির নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচি। শোকের মাসের প্রথম প্রহরে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে আলোর মিছিলের মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করা হয়। মিছিলটি ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে তাকে স্মরণ করে। এ সময় সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের আয়োজনের মধ্যে রয়েছ সূর্যোদয়কালে দেশের সব জেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। এর পর সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, গরিব ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল। সকালে রয়েছে কৃষকলীগের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘১৫ আগস্টের প্রতি বিপ্লব ও পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থক ও বঙ্গবন্ধু অনুরাগীরা বিভিন্ন আয়োজনে সারা দেশে শোকের মাস পালনের সূচনা করবেন আজ থেকে।






মন্তব্য চালু নেই