মেইন ম্যেনু

শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব আছে, কাজ নেই!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে ২০১৩ সালের দিকে জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দু’বছরের মাথায় ২০১৫ সালে হলটি উদ্বোধন করা হলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে হল সম্প্রসারণের কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া যায়নি।

অথচ নির্মাণাধীন হলটিতে ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড.হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। দায়িত্ব থাকলেও হলটি নির্মাণাধীন থাকায় তার কোনো কাজ নেই বললেও চলে। তবে অনেক শিক্ষকের মতে, হলের প্রভোস্ট নিয়োগের বৈধতা দিতে ২০১৬-১৭ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকটি বিভাগের অনাবাসিক ছাত্রীদের এ হলে এটাচমেন্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে ছাত্রদের জন্য নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হলের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়নি কোনো প্রভোস্ট। ফলে শুধুমাত্র নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট নিয়োগ দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার সময় ছাত্রীদের জন্য নির্মিত জননেত্রী শেখ হাসিনা হল ছিল চারতলা বিশিষ্ট, আসন সংখ্যা ছিল ৫০০। আর দুই তলা বিশিষ্ট ছেলেদের জন্য নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছিল ১৮৬টি আসন। কিন্তু, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের কথা মাথায় রেখে ওই দুই হল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী দুই আবাসিক হলেই ছয়তলা বিশিষ্ট ও সাড়ে সাতশ করে মোট ১৫০০ আসন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয় প্রশাসন।

এদিকে দুই বছরে এসেও শেখ হাসিনা হলের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়নি। কিন্তু রীতিমত প্রভোস্টের সকল সুযোগ সুবিধা, এমনকি ভাতাও গ্রহণ করছেন প্রভোস্ট প্রফেসর ড.হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায়, কোনো অধ্যাপক যদি প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পান সেক্ষেত্রে মূল বেতনের শতকরা সাড়ে ৮ ভাগ হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। সে অনুসারে, প্রফেসর ড. হেলাল বিগত ১৭ মাসে ভাতা বাবদ মোট ৯৫ হাজার ৩ শত ৭০ টাকা পেয়েছেন।

নিয়মিত ভাতা পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা বলেন,যেহেতু প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেহেতু তিনি প্রভোস্ট হিসেবে ভাতাদি পেয়ে থাকবেন। হলের প্রথম পর্যায়ে কাজ শেষ হবার পর আমরা ছাত্রীদের আসন বরাদ্দ দেয়ার কথা চিন্তা করে প্রভোস্ট নিয়োগ দিয়েছিলাম। পরে হল সম্প্রসারণের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ শুরু হলে ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আর বরাদ্দ দেয়া হয় নি। তবে ওই হলে বিভিন্ন বর্ষের ও বিভাগের অনাবাসিক ছাত্রীদের এটাচমেন্ট রয়েছে। ফলে তাদের একাডেমিক বিষয়গুলো প্রভোস্টই দেখভাল করেন।

নির্মাণধীন হলে প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে উপাচার্য দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর এ প্রতিবেদকের কর্মরত সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্র দেখাতে বলেন। এসব ছাড়া উপাচার্য কোনো সাংবাদিককে বক্তব্য দেন না বলেও জানান। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন। এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

এদিকে নিয়োগ প্রাপ্ত শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রশাসন আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। অন্য হলে কেন নিয়োগ দেয় নাই তা প্রশাসনের ব্যাপার।






মন্তব্য চালু নেই