মেইন ম্যেনু

শেষ, তবু থেকে যায় কিছু

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে আসা সম্পর্কে হঠাৎই ভাটা পড়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি আপনাকে একটি মুহূর্তও স্বস্তি দিচ্ছে না। বারবার চোখের সামনে ভাসছে তার সঙ্গে কাটানো মধুময় স্মৃতিগুলো। সদ্য ভালোবাসা হারানোর ক্ষতটা দিনে দিনে দগদগে হয়ে উঠছে। অথচ প্রতিদিনের নিয়মিত কাজে আপনাকে অংশগ্রহণ করতেই হচ্ছে। ঠিকমতো কোনো কাজে মন দিতে না পারায় কর্মক্ষেত্রে নষ্ট হতে বসেছে সুনাম। অপরদিকে, একান্তে কাটানো সময় গুলোতে ভগ্ন হৃদয়ের যন্ত্রণাটা আরও বেশি পেয়ে বসছে। এসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কিছু যুক্তি অবলম্বন করতে পারেন। যেমন-

কষ্টকে মেনে নিন
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই নানা রকম ঝামেলা দিয়ে পরিপূর্ণ থাকে। সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পরিচ্ছন্ন কোনো মুহূর্ত আপনার জীবনে আসবে না। সকল বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়েই সুনামের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। তাই সব চিন্তাকে একপাশে ঢেলে ফেলে কাজের সময় শুধু কাজের প্রতিই মনযোগী হতে হবে। কাজ বাদে যে সময় একান্তই আপনার, তখন কষ্টকে গভীরভাবে চর্চা করাও অমূলক। নিজের মনের সঙ্গে সরল একটি বোঝাপড়া করে নিন আগেভাগেই, ভাবুন না- ‘যা হবার তাই হয়েছ’। হয়তো এই বিচ্ছেদই আপনার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। তাই নিজের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে প্রথমতই কষ্টটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিন।

অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
দুজনের মধ্যে ভালোবাসা চলার সময়ে অজান্তেই কিছু অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু সেই অভ্যাস এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার বার সেই অভ্যাসবসত প্রতিটি কাজে সঙ্গীর অভাব অনুভব করছেন। যেমন- আগে দুজনের অবসর কাটানো, শপিং করা, একসঙ্গে হাঁটার অভ্যাস ছিল। এমনকি নিজের প্রতি যত্নের ব্যাপারেও তার শাসন ছিলো আপনার উৎসাহ। মাথায় হাত দিয়ে চুল এলোমেলো করে দেয়ার কেউ নেই, নানা খুনসুটি করে অস্থির করে দেয়ারও কেউ নেই। তখন বিরক্ত হলেও এখন সব কিছুই মিস করছেন। এখন সব জায়গায় নিজেকে খুবই একা মনে হচ্ছে। এই অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন। রোমান্টিক মুডের গান শুনুন, পছন্দের টিভি শো দেখুন। পরিবারের লোকের সঙ্গে সময় দিন বেশি করে। অবসর পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে জমপেস আড্ডায় মাতুন। দেখবেন, অভ্যাসগুলোর শূন্যতা আপনাকে আর পীড়া দিচ্ছে না।

সম্পর্কের বিপরীত দিক নিয়ে ভাবুন
যে সমস্যার জন্য আপনার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে, সেগুলো নিয়ে ভাবুন। সমস্যাগুলো নিশ্চয় বড় ছিল। সম্পর্ক টিকে থাকলে হয়তো সমস্যা আরও বাড়তে পারত। তাই যা হয়েছে, ভালো হয়েছে। এমনটাই ভাবুন। মনে রাখবেন, দুষ্টু গরুর চেয়ে যেমন শূন্য গোয়াল ভালো। সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতাপূর্ণ সম্পর্কের চেয়ে একা থাকাই ভালো। তাহলে আর সারা জীবন পস্তাতে হবে না। সম্পর্কের এই উল্টোদিকটি মনে ধারন করতে পারলে পুরনো সম্পর্কটি আপনাকে আর পীড়া দেবে না।

সঙ্গত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ুন
বহমান জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে বলে আপনার আর কিছুই করার নেই এমনটা ভাবা সম্পূর্ণ বোকামী। মনে রাখবেন, নিজের জীবনের অধিকার শুধু আপনারই নয়। সেখানে আপনার পরিবারের সদস্যদেরও প্রত্যক্ষ অধিকার রয়েছে। তাদের কথা চিন্তা করেও আপনার ভালো থাকা জরুরি। তাই ভেবে চিন্তে আপনার যোগ্য কোনো সঙ্গীর সঙ্গ নিতে পারেন। জীবনকে রাঙিয়ে তুলুন ভালোলাগার সব রং দিয়ে। সেই রঙের ছটা ছড়িয়ে পড়ুক আপনার কর্মময় জীবনেও। কারণ, একটা সম্পর্কের মৃত্যু মানেই সব শেষ নয়, জীবনের জন্য তবু কিছু থেকে যায়। দিয়ে যায় বাস্তব কিছু জ্ঞান।






মন্তব্য চালু নেই