মেইন ম্যেনু

শেষ পর্যন্ত সুমাইয়াকেও বাঁচানো গেল না

দুই ছেলে, স্বামীর পর চলে গেলেন উত্তরায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ গৃহবধূ সুমাইয়াও। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হলেন। দগ্ধ হওয়ার ৯ দিনের মাথায় মোহাম্মদপুরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে রোববার (৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যু হয় গৃহবধূ সুমাইয়ার।

শনিবার রাতে দগ্ধ গৃহবধূ সুমাইয়াকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার ঢামেক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সুমাইয়ার মৃত্যুতে একই পরিবারের দগ্ধ হওয়া ৫ সদস্যের ৪ জনই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দগ্ধ হওয়ার পর এ পরিবারের সবাইকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। পরিবারের সদস্যদের ৪ জনেরই শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়।

চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে প্রথমে ১৪ মাস বয়েসি ছোট ছেলে জারা বিন নেওয়াজের মৃত্যু হয়। কদিনের মাথায় মারা যায় বড় ছেলে সালিল বিন নেওয়াজ (১৪), ২৭ ফেব্রুয়ারি সঙ্গাহীন অবস্থায় মারা যান স্বামী প্রকৌশলি শাহ নেওয়াজও। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কম দগ্ধ হয় মেজ ছেলে জারিফ বিন নেওয়াজ (১০)। তার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায়। সে এখন বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাসায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৫ সদস্য দগ্ধ হন। সকালে রান্না ঘরে চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের সব সদস্য দগ্ধ হন।

এদিকে মৃত সুমাইয়ার দেবর মাহমুদ হাসান বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করা হয়। আমাদের পরিবারে একের পর এক মৃত্যু নিয়ে আমরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত রাতে চিকিৎসকদের নির্দেশে ভাবীকে (সুমাইয়া) আইসিইউতে ঢোকানো হয়। সকালে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করা হলেও আইসিইউ থেকে এখনো বের করা হচ্ছে না। আমরা এ খবর পাওয়ার পর থেকেই বলছি মৃতদেহ আমাদের কাছে ফেরত দিতে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সময় শেষ না হওয়ায় আইসিইউ থেকে বের করছেন না। কারণ তারা যত বেশি সময় রাখতে পারবেন তারা তত বেশি টাকা নেবেন।






মন্তব্য চালু নেই