মেইন ম্যেনু

শেষ মিনিটের গোলে জয়বঞ্চিত আর্জেন্টিনা

রাত সাড়ে তিনটায় খেলা। তাতে কী। আর্জেন্টিনার খেলা বলে কথা। তাই তো কেউ না ঘুমিয়েই অপেক্ষা করছিলেন। কেউ-বা আবার ঘুম থেকে উঠে বসে পড়েছিলেন টিভি সেটের সামনে। লক্ষ্য, মেসি-তেভেজদের খেলা দেখা, আর্জেন্টিনার জয় উপভোগ করা।

প্রথমার্ধে দুই গোল করে জয়ের পথে এগিয়েও গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল হজম করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়বঞ্চিত হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। তাও শেষ গোলটি নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে হজম করেছে লিওনেল মেসির দল। কোপা আমেরিকায় ‘বি’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

লা সেরেনায় শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা। ১৩ মিনিটে আঙ্গেল ডি মারিয়ার বাঁকানো কর্নার-কিক একহাতে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ভিয়ার। ১৮ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে হাভিয়ের মাশচেরানোর শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

অবশ্য কোটি কোটি সমর্থকদের গোল উপহার দিতে খুব বেশি সময় নেয়নি আর্জেন্টিনা। ২৯ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন সার্জিও আগুয়েরো। যদিও নিজেদের ভুলেই গোলটি হজম করে প্যারাগুয়ে। মেসির কাছে থেকে বল কেড়ে নিয়ে নিজেদের পোস্টের সামনে ব্যাক-পাস দেন প্যারাগুয়ের স্যামুদিও। কিন্তু বলটি পেয়ে যান আগুয়েরো। ফাঁকায় বল পেয়ে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করতেও বেশি সময় লাগেনি আর্জেন্টিনার। ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। প্যারাগুয়ের এক খেলোয়াড় ডি মারিয়াকে বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ফুটবলের খুদে জাদুকর মেসি। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে দুই দলই আক্রমণে ধার বাড়ায়। তবে আক্রমণের ধারটা আর্জেন্টিনার চেয়ে প্যারাগুয়েরই বেশি ছিল। ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন মেসি। কিন্তু তাকে গোলবঞ্চিত করেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। মেসির শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ হতে পারতো প্যারাগুয়ের। তবে দারুণ এক গোল সেভ করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। অবশ্য পরের মিনিটেই প্যারাগুয়েকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। পোস্টের ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে গোল করেন ভালদেজ। ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা ২-১ প্যারাগুয়ে।

৬৩ মিনিটে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডি মারিয়া। প্যারাগুয়ের দুজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে পোস্টের সামনে বল বাড়ান মেসি। বলটিতে পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হত। কিন্তু বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন ডি মারিয়া। ৬৬ মিনিটে পাস্তোরের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই পাল্টা-আক্রমণে যায় প্যারাগুয়ে। তবে দারুণ এক সেভ করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো। প্যারাগুয়ের স্যামুদিওর শট লাফিয়ে উঠে একহাতে ঠেকিয়ে দেন তিনি।

৭৫ ও ৭৬ মিনিটে যথাক্রমে মাঠে নামেন কার্লোস তেভেজ ও গঞ্জালো হিগুয়েন। পাস্তোরেকে উঠিয়ে তেভেজ ও আগুয়েরোর বদলে হিগুয়েনকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনার কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। কিন্তু গোল পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। উল্টো নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে গোল হজম করেন তারা। লুকাস বারিওসের গোলে ২-২ সমতা ফেরায় প্যারাগুয়ে। ফলে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্রয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি-তেভেজরা।






মন্তব্য চালু নেই