মেইন ম্যেনু

শেয়ালের সঙ্গে প্রেম!

বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় নেই, অদূরেও কোনো ঘন বাঁশ ঝাড় নেই। আশেপাশে গাছাগাছালিরও তেমন ভিড় নেই। অথচ দিনেদুপুরে বাড়ির উঠানে শেয়াল এলো কী করে? আরো আশ্চর্য বিষয় হলো পাশে থাকা কুকুরটিও তাকে দেখে কিছু বলছে না, তাড়াও করছে না!

কিছুক্ষণ বাদেই জানা গেল, ও কোনো জঙ্গলে থাকে না, বাড়িতেই তার বাস। ঘুমায়ও বিছানাতেই। খাওয়া-দাওয়াও করে সবার সঙ্গে- ভাত, ডাল, মাছ সবই খায়। আবার সুযোগ পেলেই এর-ওর কোলে চেপে টো টো করে পাড়াও ঘুরে!

বীরভূমে মাঠের কাজ করতে গিয়ে তিন বছর আগে শেয়ালটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন দিনমজুর মিঠুন কোড়া। সেখান থেকে এসেছেন বর্ধমানে। সঙ্গে এসেছে বকুলও। কিন্তু কেউ কেউ তখন বলাবলি করে, আদিখ্যেতা দেখে আর বাঁচি না, শেষে কি না শেয়াল।

তবে গত তিনবছর ধরে প্রতিবেশীর বাড়িতে পোষ্য হিসেবে শেয়াল দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বর্ধমান শহরের বীরহাটা এলাকার বাসিন্দারা। ঘটা করে নামও রাখা হয়েছে তার, বকুল। এ নামে ডাকলেই সে ফিরে তাকায়, মন চাইলে দৌড়ে এসে কোলে উঠে।

মিঠুন কোড়া জানান, প্রথম প্রথম পাড়ার সবাই বকুলের কাছ থেকে বেশ দূরে দূরে থাকতো। কিন্তু এখন আর কোনো অসুবিধে নেই। কেউ কেউ বাড়িতে ভালোমন্দ রান্না করলেই বকুলকে খাইয়ে যায়। কেবল কি মানুষ, পাড়ার কুকর, ছাগলদের সঙ্গেও বকুলের ভাব হয়েছে। বন্ধুত্ব পাতিয়েছে হাসঁ-মুরগীর সঙ্গেও!

তবে বকুলের সেই সুখে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বন অধিদপ্তর। তাদের কানে ইতিমধ্যেই বকুলের খবর পৌঁছে গেছে। বর্ধমান বন কর্মকর্তা অজয় কুমার দাস জানিয়েছেন, খুব দ্রুত শিয়ালটিকে উদ্ধার করে বনে ফেরানো হবে।

যা শুনে ঘুম নেই মিঠুন ও তার পরিবারের। বকুলকে হারাতে চান না তার প্রতিবেশীরাও। আর পাড়ার শিশুদের ভালো বন্ধু যে সে! তাকে ছাড়া থাকবে কি করে সবাই।






মন্তব্য চালু নেই