মেইন ম্যেনু

শোক সভায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় মো. রকিবুল ইসলাম (৪৩) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামী লীগের ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. হোসেন আলীসহ অন্তত তিনজন আহত হন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রকিবুল ইসলাম কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও টেংরাবাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. হোসেন আলী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের কর্মী মো. আব্দুল মোতালেব জানান, কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামী লীগের ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল আজিজ। প্রধান অতিথি ছিলেন- গাজীপুর-১ আসনেরর সাংসদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠান শুরুর কিছু সময় পর বক্তব্য দেন- কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্য শেষ করে অনুষ্ঠান চলা অবস্থায় মঞ্চ থেকে নেমে ওই কলেজের পশ্চিম পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করেন। এ সময় তার প্রতিপক্ষ ১০-১২ যুবক তার উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় তারা।পরে আশপাশের লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

সম্প্রতি কালিয়াকৈর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরেই রফিকুলের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পাওে বলে তাদের ধারণা।

এদিকে, তার মৃত্যুর খবর অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছালে সভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বক্তব্য না দিয়েই অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে যান। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলা হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক হামলায় নিহতের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনার পর শোকসভা পণ্ড হয়ে গেছে। অতিথিরা থানায় অবস্থান করছেন। ঘটনা সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মৃতদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই