মেইন ম্যেনু

শৌচাগারের জন্য তরুণীর আত্মহত্যা

খুশবু কুমারী। বয়স ১৭। ঝাড়খন্ড রাজ্যের দুমকা জেলার এন এ কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী। লেখাপড়ায় বেশ ভালো। কিন্তু নাম খুশবু হলেও তাদের বাড়িতে সৌন্দর্যের কোনো খুশবু ছিল না।

বন্ধুরা তার বাড়িতে আসতে চাইলেও তিনি লজ্জায় তাদের আনতে রাজি হতেন না। কারণ তাদের বাড়িতে কোনো শৌচাগার নেই। চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে তাকে খোলা জায়গায় কিংবা অন্যের বাড়িতে গিয়ে প্রকৃতির কাজ সারতে হতো।

সম্মান শ্রেণিতে পড়া ওই তরুণীর জন্য ছিল এটা বেশ অস্বস্তিকর একটা বিষয়। বাবা-মাকে তিনি প্রায়ই একটি শৌচাগার নির্মাণের জন্য তাগাদা দিতেন, করতেন অনুনয়-বিনয়। কিন্তু কোনো কিছুতে বাবা-মা’র মন গলাতে পারেননি তিনি।

অবশেষে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি। শুক্রবার দুমকার গাওশালা রাস্তায় অবস্থিত তাদের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন খুশবু।

খুশবুর মা সানজু দেবী বলেন, ‘বাড়ির ভেতর একটি শৌচাগার নির্মাণে খুশবু প্রায়ই আমাদের তাগাদা দিত। শৌচাগার নির্মাণের পরিবর্তে আমরা বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকৃতির কাজ সারতে সে নিকটস্থ তার দাদার বাড়িতে যেতো। দুমকার একটি আদালত সংলগ্ন পাকা বাড়িতে চারটি কক্ষ থাকলেও একটি শৌচাগার নির্মাণে কখনই অগ্রধিকার দেয়নি তারা।’

খুশবুর বাবা শ্রীপাতি যাদব বলেন, ‘শৌচাগার নির্মাণের চেয়ে টাকা মজুত রাখার পরিকল্পনা করেন তিনি, যাতে ওই টাকা দিয়ে খুশবুর বিয়ে দেওয়া যায়।’

শৌচাগার সমস্যা ভারতে একটি সাধারণ ঘটনা। শৌচাগার না থাকায় অনেকে স্বামীর বাড়ি ছেড়েছেন। বিষয় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ভারতে। নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় এনজিও রাজ্যের সব বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।






মন্তব্য চালু নেই