মেইন ম্যেনু

শ্বেত ভাল্লুকের খাবার ডলফিন !

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু পরিবেশের উপরই সীমিত থাকে না। প্রতিবেশের অংশ হিসেবে এর জীববৈচিত্র্যের উপরও এর প্রভাব পরে। যে কারণে এই প্রথমবারের মতো কোনো শ্বেতভাল্লুককে ডলফিন খেতে দেখা গেছে। সম্প্রতি নরওয়ের একদল বিজ্ঞানী শ্বেতভাল্লুকের খাদ্য হিসেবে ডলফিনকে গ্রহন করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আর বিজ্ঞানীদলের দাবি যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শ্বেতভাল্লুকের খাদ্যাভাস পাল্টে যাওয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে।

সাধারণত শ্বেতভাল্লুকেরা সাগরের সিল মাছ ভক্ষণ করে। কিন্তু আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল অঞ্চল থেকে ক্রমাগত সিল মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শ্বেতভাল্লুকের খাবারের টানাপোড়েন শুরু হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে নরওয়ের পোলার ইন্সটিটিউটের কয়েকজন বিজ্ঞানী এই ভাল্লুকদের গতিবিধি লক্ষ্য করতে দীর্ঘসময় কাজ করছেন। তেমনি পর্যবেক্ষনের একদিন দলটি একটি শ্বেতভাল্লুককে ডলফিন খেতে দেখে এবং ক্যামেরাবন্দী করে। যা পরবর্তী সময়ে চলতি মাসের পোলার রিসার্চ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীদলের একজনের দাবি, এই ঘটনার শুরু এবারই প্রথম নয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে দুইটি ডলফিনকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় আকর্টিক সার্কেলের নির্দিষ্ট একটি স্থানে পাওয়া গিয়েছিল। তখন থেকেই সন্দেহ করা হয়েছিল শ্বেতভাল্লুক ওই ডলফিনদুটোর অবস্থার জন্য দায়ি। কিন্তু যথোপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় সেটা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

শুধু খাদ্যাভাসেই নয়, আবাসস্থলও পরিবর্তন হয়েছে শ্বেতভাল্লুকদের। বিজ্ঞানীদের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে গ্রীস্মের সময় সচরাচর যে স্থানে শ্বেতভাল্লুকদের দেখা যেত, এখন আর সেখানে তাদের দেখা যায় না। আর কদাচিৎ দেখা গেলেও তাদের শারীরিক অবস্থা অতটা ভালো দেখা যায় না। বিজ্ঞানীদের দাবি, পোলার ভাল্লুকেরা ক্রমশ উত্তরের দিকে চলে যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে বরফের চাই ভেঙে এবং অন্যত্র সরে যাওয়ার কারণে ভাল্লুকদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হচ্ছিল। তবে বিজ্ঞানীরা পাশাপাশি এটাও জানিয়েছে যে, ভিন্ন পরিবেশে প্রবেশের কারণে রাতারাতি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে ভাল্লুকেরা। তবে পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে যদি তারা নিজেদের পরিবর্তিত করে নেয় তাহলে নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেই হয়তো শ্বেতভাল্লুকদের দেখা মিলতে পারে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই