মেইন ম্যেনু

শ্রদ্ধায় গলে গেলো মনটা : সচিব হয়েও ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করেন তিনি!

এশ কালার শার্ট, কালো প্যান্ট পড়া যাকে দেখছেন তিনি একজন সচিব। ফুটপাথ থেকে জামা কাপড় কিনছেন ছেলে মেয়ের জন্য। হা সচিব, মন্ত্রনালয়ে আছেন। নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে আমার সময় লেগেছে। ড্রাইভারের খুব কাছের আত্মীয়, পান্থপথ জ্যামে আমি আটকা। ড্রাইভার এর সাথে কথা হলো। উনি আসলেন। সালাম দিয়ে বসতে বললাম গাড়িতেই। খুব বিনয়ের সাথে কথা বলে বাসায় যাওয়ার দাওয়াত দিয়েই চলে গেলেন। যাওয়ার মুহুর্তে শুনলাম উনি একজন সচিব। ফুটপাথে কাপড় কিনতে দাড়ানো দেখেই নাক সিটকালাম (আমি দু:খিত)।

ভেবেছিলাম কিপটা বোধ হয়। ঈদে বাচ্চাদের ভালো জামা কাপড় দিবে তা না। পরক্ষনেই অপরাধবোধে ভরে গেল মনটা। ফেরেশতার মত একজন মানুষ নিয়ে কি ভাবলাম এতক্ষণ। ইনি ঘুষ খান না। যা বেতন পান তা দিয়ে ঢাকায় চলা কষ্টকর। অফিসের গাড়ি ইউজ করেন না। সেগুনবাগিচা থেকে হেঁটে আসছেন পান্থপথ। নামাজ পড়েন পাঁচ ওয়াক্ত। আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করেন, এভাবে চলবে? ভবিষ্যত কি?

দৃঢ় উত্তর দেন তিনি, ছেলে-মেয়েগুলোকে পড়াচ্ছি। এরাই ভবিষ্যত। আল্লাহ পাক আমাদের দেখবেন। এই এক জোড়া জামা কাপড় উল্টায়ে পালটায়ে পড়েন। খেয়াল করলাম এত কিছুর মাঝেও উনি ফিটফাট। কি চমৎকার করে ইন করেছেন। বিনম্র শ্রদ্ধায় গলে গেলো মনটা। পারলে রাজপথে দাঁড়ায়ে স্যালুট দিতাম।

লেখকঃ মলয় দাস






মন্তব্য চালু নেই